ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কারামুক্তির পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য, এডিট করা ছবি এবং ভিত্তিহীন প্রচারণা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন তার অনুসারীরা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে আইভীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির সঙ্গে দাবি করা হয়, তিনি সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে এমন কোনো কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া গত কয়েকদিনে ফেসবুকে আরও একটি গুজব ছড়ানো হয় যে, ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ বা দখল নিয়েছেন আইভী। বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে এমন দাবি প্রচার করা হলেও এর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট মহলও বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
আইভীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাদের দাবি, কারামুক্তির পর তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিভিন্ন ধাপে উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগে জামিন পাওয়ার পর গত ৩ জুন রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর তার কারামুক্তি হয়।
কারামুক্তির পর থেকেই তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে একের পর এক গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেক সাধারণ ব্যবহারকারীও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

