শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

|

আশ্বিন ১৪ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

মাদকের নিরাপদ ট্রানজিট রুট ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৫১, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

মাদকের নিরাপদ ট্রানজিট রুট ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক

ফাইল ছবি

প্রায় প্রতি মাসেই কোন না কোন বড় ধরনের মাদকের চালান আটক করা হয় দেশের ইকোনোমিক লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে। নারায়ণগঞ্জের ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন অবৈধ মাদকদ্রব্য। এপথে নিরাপদে মাদক পরিবহন করা যায় বলে মাদক ব্যবসায়ীরা বেছে নেন এ পথ।

জানা যায়, রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে চট্টগ্রামসহ আশেপাশের জেলাগুলো থেকে পন্য, মালামাল ও যাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াত হয় এ পথে। এত মালবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ি এ পথে চলাচল করে ফলে এসবের আড়ালে নিরাপদে পরিবহন করা যায় মাদকদ্রব্য। মাঝে মাঝে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড় বড় চালান আটক করা গেলেও আধরাই থেকে যায় ছোট ছোট চালান।

সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ইয়াবা পাচারে মাদক ব্যবসায়ী এবং পাচার কারীরা ব্যবহার করছে নিত্য-নতুন, নামি-দামি প্রাইভেটকার ও বিলাস বহুল গাড়ী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও র‌্যাব কর্তৃক আটককৃত, মাদক পাচারের সময় জব্দ করা গাড়ী ও চেকপোস্টে গাড়ী থেকে মাদক উদ্ধারের নিমিত্তে এসব নামি দামি গাড়ী ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। প্রাপ্ত তথ্যে আর জানা যায়, এক সময় ইয়াবা পাচার কারীগণ গাড়ীতে করে, ব্যাগে করে, গাড়ীর বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সাথে বেঁধে, শরীরের সাথে বেঁধে, বাদ্য যন্ত্রের ভেতরে, সর্বশেষ মলদ্বারে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেটের ভেতরে করে এই মাদক পাচার করে আসছিল। এছাড়া এই পাচারে যাদের ব্যবহার করত এদের মধ্যে একাংশ হচ্ছে মহিলা। পুরুষ যারা পাচারকারী হিসেবে মাদক বহন করত, তাদের বেশ-ভূষা ছিল এক প্রকার শ্রমিকের মত। এসকল কৌশল আইনশৃংখলা বাহিনী জেনে গেলে পাচারকারীরা বোল পাল্টে পাচার কাজে নামি-দামি প্রাইভেটকার যোগে ভদ্রলোক সেজে মাদক পাচার করছিল। সম্প্রতি চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে এসব নামি দামি প্রাইভেটকারসহ কতিপয় মাদক পাচার কারীদের আটক ও মাদক দ্রব্য উদ্ধারের পর বিষয়টি সকলের দৃস্টি গোচর হয়।

ইয়াবা পাচারকারীদের সর্বশেষ পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম নামি-দামি বিভিন্ন ব্যান্ডের প্রাইভেটকার, বিলাশ বহুল গাড়ী, টাই শ্যূটপরে ভদ্রলোক সেজে তারা আইনশৃংখলা বাহিনীর নজরদারী এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সূত্রে জানা যায়। কিন্তু এতেও তাদের শেষ রক্ষা হচ্ছে না। মাঝে মাঝে মাদক উদ্ধার হলেও অধরা রয়ে যাচ্ছে এই রুটে চলা বিলাসবহুল গাড়ীতে টাইশ্যূট পরা ভদ্রলোক বেশি মাদক পাচারকারীরা।

পুলিশ কর্মকর্তা সুত্রে জানা যায়, অনেক সময় এসব গাড়ী থামালেও অনেকে এটাকে হয়রানি মনে করছেন। একটা গাড়ী যখন কক্সবাজার থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওয়ানা হয়, তখন ঢাকা পর্যন্ত কয়েকটি চেকপোস্টে যখন গাড়ীগুলো থামানো হবে এতে করে একটু সময় লাগবে। আর এতে যাত্রীসাধারণ খুব বিরক্ত বোধ করেন। তাই পুলিশ বিভিন্ন চেকপোস্টে লোকাল গাড়ীগুলো থামিয়ে চেক করে কিছু মাদক দ্রব্য উদ্ধার করে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা উৎপাদন হয়ে তা বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের প্রতিটি পথে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারী বাড়িয়ে এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার রুটে নিয়মিত তল্লাশি চৌকি বসানো হলে সারাদেশে মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটা কম থাকবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি কঠোর নজরদারীতে রাখলে মাদকের এই বিশাল বহর ঢাকা হয়ে সারাদেশে ছড়ানোর আশঙ্কা থাকবে না। 

সম্প্রতি প্রায় ৩৭ কোটি টাকার বড় একটি চালান এ সড়ক থেকে আটক করা হয়। তল্লাশিচৌকি বসিয়ে মালবাহী ট্রাক ও কনটেইনারে তল্লাশি করেন র‍্যাব-১১–এর সদস্যরা। এ সময় দুটি কনটেইনার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৬ হাজার ৮১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা, ১৫ হাজার ৯৩৫ নেপালি রুপি, ২০ হাজার ১৪৫ ভারতীয় রুপি, ১১ হাজার ৪৪৩ চীনা ইউয়ান, ৪ হাজার ২৫৫ ইউরো, ৭ হাজার ৪৪০ থাই বার্থ, ৯ সিঙ্গাপুর ডলার ও ১৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটি সি অ্যান্ড এফের যোগসাজশে অবৈধ মাদক আমদানি করে থাকে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা বিভিন্ন কোম্পানির কাগজপত্র ব্যবহার করেন। তাঁরা মূলত দেশে টিভি ও গাড়ির পার্টসের ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।

এভাবে নানাভাবে মাদক প্রবেশ করছে রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জে। তাই এ মহাসড়ককে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো সতর্ক অবস্থান চায় সাধারণ মানুষ।