ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনে মুক্তিকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের আদেশে তার মুক্তিকে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আইভীর জামিনে মুক্তি আদালতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো এখনো জনমনে প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনীতি ব্যক্তির চেয়ে বড়। তাই কোনো ব্যক্তির জন্য দায়মুক্তির সুযোগ থাকা উচিত নয়।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি শওকত আলী বলেন, আদালত দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তবে জামিন পাওয়া মানেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া নয়।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার হওয়া প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য উদঘাটিত হবে।
শওকত আলী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের চেয়ে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে ক্ষমতায় থাকা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। আইভীর মুক্তিকে আমরা একটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছি।
তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ এখন প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা দেখতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, আদালত আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, এটি আদালতের বিষয়। তবে যেসব অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষিতে তিনি কারাভোগ করেছেন, সেগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার হওয়া প্রয়োজন। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।
মাওলানা আব্দুল জব্বার আরও বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করুক এবং জনগণ প্রকৃত সত্য জানতে পারুক—এটাই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক ও সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

