বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

কারামুক্তির পর আইভীর বাড়িতে ভিড় আশপাশে বসানো হয়েছে সিসিটিভি

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ৪ জুন ২০২৬

কারামুক্তির পর আইভীর বাড়িতে ভিড় আশপাশে বসানো হয়েছে সিসিটিভি

সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন

এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাঁকে দেখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের দেওভোগ এলাকার বাসভবন ‘চুনকা কুটির’-এ কর্মী-সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা যায়।

এর আগে বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান আইভী। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাসভবনে পৌঁছান। এ সময় তাঁর ভগ্নিপতি আবদুল কাদির ও সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনিরসহ স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাড়িতে আগত লোকজনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর খোঁজখবর নিতে আসছেন।

এদিকে আইভীর বাড়িতে ফেরার রাতেই চুনকা কুটিরের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে পুলিশ। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে পুরো শহরকে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা। তবে সীমিত সক্ষমতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে এসব এলাকায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে সেখানে অতিরিক্ত লোকসমাগম বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কর্মসূচি পালন করা না যায়।”

সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকা, সদর ও শিল্পাঞ্চলকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

আইভীর বাসভবনকে কেন্দ্র করে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারেক আল মেহেদী বলেন, “এটি বিশেষভাবে শুধু মেয়র আইভীর জন্য করা হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। তবে তিনি যেহেতু বর্তমানে বাসায় অবস্থান করছেন, তাই সেখানে যাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সদস্যরা সমবেত হতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।”

আইভী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। আমার জানা নেই তাঁরা আলাদাভাবে কোনো নিরাপত্তা চেয়েছেন কি না।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ের তিনটি হত্যা মামলা, দুটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও নতুন মামলায় তাঁকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি। এরপর তাঁর মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়।

সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন।