শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

কারাগারে আইভীর সঙ্গী মমতাজের গান, ভাইয়ের স্মৃতিতে কাঁদলেন সাবেক মেয়র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১০:৪৪, ৫ জুন ২০২৬

কারাগারে আইভীর সঙ্গী মমতাজের গান, ভাইয়ের স্মৃতিতে কাঁদলেন সাবেক মেয়র

ফাইল ছবি

কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে গান শুনিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়মিত সঙ্গ দিতেন কণ্ঠশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। 

সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ বাসভবনে ফেরার পর জেলজীবনের এমন এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আইভী।

​আইভী জানান, কারাগারে অবসর সময়ে মমতাজের উপস্থিতিতে প্রায়ই ছোট ছোট গানের আসর বসত। সেই সময় মমতাজের চিরচেনা কণ্ঠের গান উপভোগ করে সময় কাটত তাঁর। তবে একটি বিশেষ গান—‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’—শুনলেই তিনি চরম আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন।

​কারাজীবনের সেই স্মৃতিচারণ করে সাবেক মেয়র বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁর ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ভাইয়ের মৃত্যুর ঠিক এক মাস পরই তিনি গ্রেপ্তার হন। ফলে মমতাজের কণ্ঠে ওই গানটি শুনলেই ভাইয়ের স্মৃতি মনে পড়ে যেত তাঁর। একপর্যায়ে তিনি মমতাজকে অনুরোধ করেছিলেন, আপাতত গানটি না গাইতে। আইভী মমতাজকে বলেছিলেন, মুক্তির দিন যদি আসে তবে সেদিন যেন গানটি গাওয়া হয়, কারণ সেদিন পরিবারের সঙ্গে দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। পরবর্তী সময়ে কথা রেখে আইভীর মুক্তির দিনই গানের আসরে সেই গানটি পরিবেশন করেন মমতাজ।

আইভী আরও জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে তিনি একটি কবিতা লিখেছিলেন। সেই কবিতায় সুর দিয়ে গান তৈরি করেছেন মমতাজ। বন্দিজীবনের এই যৌথ সৃষ্টিটি খুব শীঘ্রই জনসমক্ষে পরিবেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলজীবনে নিয়মিত ধর্মীয় নানা অনুশীলন ও দোয়ার মধ্যে সময় কেটেছে আইভীর। তিনি জানান, বিশেষ করে ‘গাদিরে খুম’ দিবসের আগেই যেন মুক্তি পান, সেই প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

গত ৯ মে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কারাভোগ শেষে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। মুক্তির পর থেকেই তাঁর বাসায় আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও নেতাকর্মীদের ভিড় লেগেই রয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।