শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

|

মাঘ ১৯ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

খালেদার মুক্তির দুই শর্তে রাজনীতি করতে পারবেন না এটি নেই : আইনমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৩:২৩, ১ ডিসেম্বর ২০২২

খালেদার মুক্তির দুই শর্তে রাজনীতি করতে পারবেন না এটি নেই : আইনমন্ত্রী

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কালও শুনেছি বিএনপির নেতারা বলেন তাকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি মুক্ত, তিনি তার বাসায় আছেন। প্রায় সময় তিনি চিকিৎসা নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। তাকে মুক্তি দেয়ার কী আছে। তারা বলছেন, ডিসেম্বরের ১০ তারিখ তাকে দিয়ে বক্তৃতা দেয়াবেন। যে দুই শর্ত দেয়া হয়েছে সেখানে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এ শর্ত নেই। কিন্তু তাদের যে আবেদন ছিল সেখানে পরিষ্কার লেখা ছিল তার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ যে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তাড়াতাড়ি মুক্তি দিয়ে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। বেগম জিয়া যদি ১০ তারিখ সমাবেশে যান তাহলে কী ওই জিনিসটা মিথ্যা প্রমানিত হবে না? 

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জে জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত সেলিম ওসমান বার ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনারা সবাই কোর্ট অব ক্রিমিনাল প্রসিজিউরের নাম শুনেছেন। ৪০১ ধারার নামও শুনেছেন। আপনাদের একটা কথা বলি। খালেদা জিয়া ২০০৭-৮ সালে যখন তত্বাবধায়ক সরকার ছিল তখন দুটোর অধিক দুর্নীতির মামলা করা হয়। তদন্ত হয় চার্জশীট হয়। প্রতিটার সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। শুধু নিন্ম আদালত না তারা এ্যাপিলেট ডিভিশন পর্যন্ত গেছেন। এ মামলাটাকে শেষ করতে। এ্যাপিলেট ডিভিশন বলেছে মামলা শেষ করা যাবে না। বিচারিক আদালতে বিচার করতে হবে। মামলা বিচারিক আদালতে বিচার হয়েছে, সাজাও হয়েছে। তারা আপিল করেছেন একটি মামলায় সেটায় হাই কোর্টের রায়ে সাজা বাড়ানো হয়েছে। আরেকটা বিচারিক আদালতে সাজা হয়েছে। তারপর তিনি জেলে গেছেন। জেলে থাকাকালীন অবস্থায় তার পরিবার থেকে দরখাস্ত করা হয়েছে তার শরীর অত্যন্ত খারাপ। তাকে যেকোন আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে যদি ছাড়ানো হয় সে প্রার্থনা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মহানুভবতায় ৪০১ ধারায় দন্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দিয়েছেন। আমি শুনি এখনও বলে বিএনপি, তাকে জামিন দিতে হবে। আমাকে একটু শেখান মুক্ত মানুষকে কীভাবে বেল(জামিন) দেয়। মনে রাখতে হবে এ্যাপিলেড ডিভিশন তাকে বেল দেয়নি। তাকে মুক্ত করা হয়েছে।

''যারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তারা আজও সোচ্চার। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা স্বাধীনতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারা আজ আবারও জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের যে উন্নয়ন হয়েছে সেটা নষ্ট করে বাংলাদেশকে আবার কোন অপশক্তির কলোনিয়াল স্টেট বানানোর চেষ্টা করছে। একটা হল আমাদের স্বাধীনতা আরেকটা বঙ্গবন্ধুর সেনার বাংলা। এ দুটো জিনিস কোন আলোচনা আসবে না। এটা হতে হবে, জননেত্রী শেখ হাসিনা করেই ছাড়বেন।''

তিনি বলেন, আমরা এ দেশে স্বাধীন পেশা করার ক্ষমতা রেখেছি আমাদের কোর্টে। আমি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি পাশাপাশি ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আজ আমরা এ স্বাধীনতা পেয়েছি বলেই উচ্চ স্বরে আইনের জন্য লড়াই করে যেতে পারছি। আমার পিতা বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী ছিলেন। আমি দেখতার তিনি মুখে হাসি নিয়ে কোর্টের দিকে রওয়ানা দিচ্ছেন। আমি আব্বাকে জিজ্ঞেস করতাম কই যান। তিনি বলতেন আজ আমার বন্ধুর মামলার রায় হবে, আমি জিতব। তখন তিনি জেতেন, জিততেনও। তবে বাসায় ফিরলে তর মুখট শুকনা থাকত চোখ ভেজা থাকত। আমি জিজ্ঞেস করতে সাহস পেতাম না আম্মাকে জিজ্ঞেস করতাম। তখন জানতাম বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা এখন স্বাধীন। আজ আমাদের মুখ মলিন হয় না। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের সে সুযোগ করে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের পরে ২৬ সেপ্টেম্বর সেই কালো দিন যেদিন ইনডেমনিটি দেয়া হয়। সেখানে বলা হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার কোন বিচার হতে পারবে না। আমরা সেটাও দেখেছি। একুশ বছর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার পাইনি। ১৯৯৬ সালের ২ আগষ্ট সে মামলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসার পর। আজ কোন মামলা করতে পাঁচ মিনিট দেরি করতে হয় না। তখনও এ অধিকার ছিল শুধু বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ছিল না। এ আদালত ও বার ভবন আপনাদের রক্ষা করতে হবে। আপনারা আইনের শাসনের প্রতি আপনাদের শ্রদ্ধা ও ত্যাগ অব্যাহত রাখবেন।

মন্ত্রী বলেন, একটা প্রশ্ন সকলে করি, নারায়ণগঞ্জে দাওয়াত করলে আপনি চলে যান কেন। আমার প্রশ্ন নারায়ণগঞ্জে এমন দানবীর থাকতে আমি এমন একটা ভবন উদ্বোধন করতে না এসে পারি না। ২০১৬-১৭ সাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের বারের যেকোন অনুষ্ঠান হলে আমি আসি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রতি আমার অন্য একটা টান একটা শ্রদ্ধা আছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি আমার একটা টান আছে।আমি আপনাদের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বলব। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। আপনারা একটা বিদ্যুৎ আদালত চেয়েছেন, সেটা পাবেন। আমি যেমন আগেও আপনাদের সহযোগিতা করে এসেছি, তেমন সবসময় পাশে থাকবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঞ্জুরুল হাফিজ, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়গঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ।