বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

|

চৈত্র ৪ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

দুঃসময়ে রাজপথ আগলে রাখা ছাত্রদল এখন অবহেলিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৩৪, ১৯ মার্চ ২০২৬

দুঃসময়ে রাজপথ আগলে রাখা ছাত্রদল এখন অবহেলিত

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে যাদের ওপর ভর করে টিকে ছিল বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম, সেই ছাত্রদলই আজ দলীয় সুসময়ে সবচেয়ে অবহেলিত। আন্দোলনের কঠিন দিনগুলোতে রাজপথে সক্রিয় থাকা এসব নেতাকর্মীরা এখন নিজেদের মূল্যায়ন না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিশেষ করে ২০২২ সালের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন নানা হামলা-মামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে, তখন নারায়ণগঞ্জে দলের কার্যক্রম সচল রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই ছিলেন একমাত্র নির্ভরযোগ্য শক্তি। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে রাজপথে টিকে ছিল বিএনপির উপস্থিতি।

তবে সেই সময়টা ছাত্রদলের জন্য ছিল চরম দুঃসহ। একের পর এক হামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাদের। অনেক নেতাকর্মী গুমের, খুনের শিকার হয়েছেন সেসময়। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

জেলা ছাত্রদলের নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদের বাড়িতে হামলার ঘটনা তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। শুধুমাত্র ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তার বৃদ্ধ পিতামাতাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। একইভাবে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহেদের বাড়িতে গুলি চালিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ছিল আলোচিত।

২০২৩ সালজুড়ে নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকায় বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের হামলা উপেক্ষা করে তারা রাজপথে অবস্থান নেয়। অনেক ক্ষেত্রে জীবন ঝুঁকিতে রেখেই কর্মসূচি সফল করে। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতেও সামনের সারিতে ছিল ছাত্রদল। সে সময় প্রশাসন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ‘রেড এলার্ট’ জারি করে। পরে ছাত্রদলের অনেক নেতাকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন শুরুতে নেতৃত্ব দিলেও আন্দোলনে মাঠের মূল শক্তি ছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেসময় জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের তৎকালীন ও সাবেক নেতৃবৃন্দরা জেলাজুড়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে যার ফলে রাজপথে পিছু হটতে বাধ্য হয় অস্ত্রধারী বাহিনীও। 

পাঁচ আগষ্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থতার কারণ দেখানো হয় এতে। এর ফলে থানা, উপজেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের সব কমিটিই কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।

এর পর থেকে দীর্ঘ সতেরো মাস ধরে নতুন কমিটি না হওয়ায় সংগঠনটি প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। অনেক নেতাকর্মী রাজনীতি থেকে সরে গেছেন, কেউ কেউ অন্য অঙ্গসংগঠনে যুক্ত হয়েছেন। ফলে এক সময়ের সক্রিয় ছাত্রদল এখন নারায়ণগঞ্জে অনেকটাই নিস্তেজ।

কমিটি নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। তাদের দাবি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও দল তাদের ন্যূনতম স্বীকৃতিটুকুও দেয়নি। তারা কোনো আর্থিক সুবিধা বা ব্যক্তিগত লাভ চান না। তারা চান শুধু দলীয় পরিচয় এবং মূল্যায়ন।

এদিকে সতেরো বছর পর ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া বিএনপি এবার ঈদ উদযাপন করছে ভিন্ন বাস্তবতায়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই আনন্দ ভাগাভাগিতে ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে দেখা যাচ্ছে না দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। দুঃসময়ে রাজপথে আগলে রাখা ছাত্রদলের ঈদও যেন মলিন হয়ে আছে।

যে ছাত্রদল একসময় রাজপথে লড়াই করে দলের কঠিন সময় পার করেছে, সেই সংগঠনটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলীয় অভ্যন্তরেই। তৃণমূলের প্রত্যাশা দলের সুসময়ে তাদের অবদান যেন ভুলে না যায় নেতৃত্ব। দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ছাত্রদলকে আবার সক্রিয় করার দাবী দলটির নেতাকর্মীদের।