ফাইল ছবি
ঈদে পুরুষের পছন্দের পোশাক পাঞ্জাবি। ঈদের নামাজ পড়া, বেড়াতে যাওয়া বা কাউকে উপহার দেওয়া সবক্ষেত্রেই মানানসই এ পোশাক। ফলে কেনাকাটার তালিকাতেও এটি থাকে ওপরের দিকে। এ জন্য ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করেই পাঞ্জাবি উৎপাদকরা তাদের পরিকল্পনা সাজান। তেমন একটি ব্র্যান্ড ‘আলিফ’। যাদের সারা বছরের বিক্রির টার্গেট এক কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশই পূরণ হয়ে যায় রোজার ঈদে। নারায়ণগঞ্জের অজপাড়াগাঁয়ে স্থাপিত একটি প্রতিষ্ঠান পাঞ্জাবিটি উৎপাদন করে।
জানা যায়, পাইকারি ও খুচরা বাজার এবং অনলাইন বিপণন মিলিয়ে এ বছর আলিফের পাঞ্জাবি বিক্রির টার্গেট কোটি টাকার ওপরে। এর অর্ধেকের বেশি লেনদেন হয় শুধু ঈদ মৌসুমে। তবে শুধু ব্যবসাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি পাঞ্জাবি বিক্রির ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ সামাজিক কার্যক্রমেও ব্যয় করে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের খানপাড়ায় অবস্থিত দেশের প্রথম লিড প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান মিথিলা গ্রুপ এই পাঞ্জাবি উৎপাদন করে। এটি উৎপাদনের সব পর্যায় দেশেই সম্পন্ন হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের টাকা দেশেই বিনিয়োগ হচ্ছে। ঈদ ঘিরে এবারও রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আড়াইহাজারের খানপাড়ায় নিজস্ব কারখানা শোরুমসহ যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, মিরপুর ও বনানীতে তাদের নিজস্ব শোরুমে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
যমুনা ফিউচার পার্কে আলিফের শোরুমের সেলসম্যান হাবিবুর রহমান জানান, দুই বছর বয়স থেকে শুরু করে কিশোর, তরুণ ও বয়স্ক ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনা করে পাঞ্জাবি শোরুমে তোলা হয়। সর্বনিম্ন দুই হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি বিক্রি করা হয়।
আরেক সেলসম্যান শরীফ হোসেন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতায় আগের বছরে বাজারে মন্দা ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা গত বছরের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি বিক্রির আশা করছেন। গত বছর রোজার ঈদে এ শোরুমে ১২ হাজার পাঞ্জাবি বিক্রি হলেও এ বছর ২০ থেকে ২৪ হাজার পিস বিক্রির লক্ষ্য ধরেছেন। প্রতিদিন গড়ে শোরুমগুলোতে ৪০০ থেকে ৫০০ পিস পাঞ্জাবি বিক্রি হয়ে থাকে।
কামরাঙ্গীরচর থেকে পাঞ্জাবি কিনতে যমুনা ফিউচার পার্কের শোরুমে আসা খলিলুর রহমান বলেন, ঈদ তো চলেই আসছে। তাই পাঞ্জাবি কিনতে চলে এসেছি। গত বছরের চেয়ে এ বছর আলিফের ডিজাইনে নতুনত্ব এসেছে। তবে দাম এবার একটু বেশি মনে হচ্ছে। তার সঙ্গে থাকা বন্ধু আফজাল হোসেন বলেন, এ বছর পছন্দের অনেক অপশন রয়েছে।
ছেলেকে নিয়ে পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন আড়াইহাজার সদরের বাসিন্দা কবির হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর আলিফের শোরুম থেকে পাঞ্জাবি কিনে থাকি। পাঞ্জাবিগুলো পরতে খুবই আরামদায়ক। তরুণ ক্রেতা মোজাম্মেল হক ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, বেশ আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল হওয়ায় তারা তিন বছর ধরে আলিফের পাঞ্জাবি পরে থাকেন। এবারের ঈদেও আত্মীয়স্বজন ও নিজের জন্য এই পাঞ্জাবি কিনেছেন। শুধু দেশেই নয়, অনেকে পাঞ্জাবি কিনে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে থাকা স্বজনদের কাছেও উপহার হিসেবে পাঠান।
মিথিলা গ্রুপের পরিচালক মাহবুব খান হিমেল জানান, সারাবছর যত পাঞ্জাবি বিক্রি হয়, তার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিক্রি হয় রমজান ও ঈদ ঘিরে। পহেলা বৈশাখ ও বিয়ের মৌসুম যুক্ত হলে বছরের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লেনদেন কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়েই সম্পন্ন হয়। ফলে উৎপাদন পরিকল্পনাও মৌসুমভিত্তিক। তিনি জানান, ঈদ ছাড়াও বিয়ে, বিভিন্ন উৎসব, জাতীয় দিবসসহ করপোরেট পর্যায়েও বিক্রি হয়ে থাকে। এর মধ্যে চলতি বছর এসিআই কোম্পানিকে এক হাজার পিস, ওয়ালটনে ৫০০ পিস ও ইদ্রিস গ্রুপকে ৩২০ পিস পাঞ্জাবি সরবরাহ করা হয়েছে।
মাহবুব খান হিমেল বলেন, চলতি বছর বায়াররা পাঞ্জাবির স্যাম্পল কালেকশন করেছে। আশা করছি তৈরি পোশাকের আওতায় এই পাঞ্জাবিও সীমিত আকারে এ বছর রপ্তানি শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, অনলাইনে এবং নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকেও আলিফ পাঞ্জবি বিক্রি হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সাধারণত ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে পায়জামা পাঞ্জাবি বেশ ভালো বিক্রি হয়। রোজার প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় এক হাজার পিস অনলাইনে বিক্রি হয়েছে।
মাহবুব খান হিমেল বলেন, এই পণ্য থেকে অর্জিত মুনাফা মালিকপক্ষ ব্যবহার করে না। মুনাফার ৫০ শতাংশ অসহায় দুস্থদের সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারজাতকরণে বিনিয়োগ করা হয়। গতবারের মতো এ বছরও অসহায় ও দুস্থ প্রায় এক হাজার পরিবারকে ঈদ উপহার ও ৫০ জন শারীরিক প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হচ্ছে।
মিথিলা গ্রুপের চেয়ারম্যান আজহার খান বলেন, আলিফ আরবি হরফের প্রথম অক্ষর আর ‘লিবাস আত্তাকওয়া’ শব্দটি আমাদের মূলমন্ত্র। যেখানে লিবাস মানে পোশাক এবং তাকওয়া মানে বিশ্বাস।
মিথিলা গ্রুপের হেড অব এইচআর সাকির হোসেন জানান, এই পাঞ্জাবির জন্য সুতা থেকে কাপড় উৎপাদন থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক উইভিং মেশিন দিয়ে ডাইং, প্রিন্টিং ও বিভিন্ন স্পেশালাইজড ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে টেকসই আরামদায়ক কাপড় প্রস্তুত করা হয়।

