প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বহুল আলোচিত হেকমত হত্যা মামলায় প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আবু শামীম আজাদের আদালত এ রায় ঘোষণা করে।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একই মামলায় আরেক আসামিকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মামলার ১ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩০) রূপগঞ্জ থানার কেরাব মোল্লাবাড়ী এলাকার ইয়াকুব হোসাইনের ছেলে। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
২ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান (২৬) একই এলাকার ইয়াকুব হোসাইনের ছেলে। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপর আসামি মামুন (২৩) একই এলাকার ইয়াকুব হোসাইনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস প্রদান করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলার কালাদি এলাকার ব্যবসায়ী হেকমত আলী (৪০)। সে মৃত কদম আলীর ছেলে। তিনি ভুলতা নুর ম্যানশন মার্কেটে মোটর পার্টসের দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের মালিক ছিলেন। নিখোঁজের ১০ দিন পর ১৪ এপ্রিল তার স্ত্রী রোকসানা বেগম রূপগঞ্জ থানায় অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দোকানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ, তার ভাই মাহফুজুর রহমান, মামুন মিয়া ও তাদের বাবা ইয়াকুব মোল্লাকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর রফিকুল ইসলাম সবুজ জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে একটি ড্রামের ভেতরে রাখা হয়। পরে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে বন্ধ করে মাছের খামারের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।নিখোঁজের প্রায় তিন মাস পর রূপগঞ্জ উপজেলার কেশাব এলাকায় একটি মাছের খামারের পানিতে ড্রামের ভেতর থেকে হেকমত আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

