ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনসহ আগামী ২৬ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সশরীর হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী এই আদেশ দেন। এর আগে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে সময় চেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার লিখিত আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
গত ৮ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্র দাখিলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবেদন জানালে আদালত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১১ সহকারী পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। আদালত সময় চেয়ে আবেদনের ওপর ৫ মার্চ শুনানির তারিখ ধার্য করেছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে জানান, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আগামী ২৬ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেনসহ সশরীর হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সময় চেয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেছিলেন। আজ ওই শুনানির ওপর ধার্য তারিখে আমরা অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছি। আদালত শুনানি শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদনসহ সশরীর হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পলাতক দুই আসামিসহ সব আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হাজিরা দেওয়া আসামিরা হলেন, আজমেরী ওসমানের সহযোগী ইউসুফ হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, তায়েফ উদ্দিন, মামুন মিয়া, কাজল হালদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাফায়েত হোসেন শিপন ও রিফাত বিন ওসমান। পলাতক ছিলেন সুলতান শওকত ও সালেহ রহমান।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুলতান শওকত (ভ্রমর) ও ইউসুফ হোসেনসহ (লিটন) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এর মধ্যে সুলতান শওকত ও ইউসুফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র আর দাখিল করা হয়নি। আজমেরী ওসমানের সহযোগী কাজল হাওলাদার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে টচার্রসেলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে।

