রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:২৪, ৭ জুন ২০২৬

ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ

ফাইল ছবি

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার শুরু থেকেই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এ বছর ডেঙ্গুর ঝুঁকি তেমন একটা দেখছি না। আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি ভালো রয়েছে। সম্প্রতি সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রতি শনিবার ক্লিনিং ডে পালন করা হচ্ছে। মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও বিভিন্ন স্থাপনায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। কারণ এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে।

ডেঙ্গু পরীক্ষার বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, “গত বছর অনেক ক্ষেত্রে সামান্য জ্বর হলেও রোগীরা ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে ভিড় করেছিলেন। এতে কিটের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে এবার সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আগে অনেক হাসপাতালে একই পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। ফলে এখন সাধারণ মানুষ কম খরচে পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাচ্ছেন।”

এদিকে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল ও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় র্যালী, লিফলেট বিতরণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ। খুব শিগগিরই জেলা প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন এবং আবাসিক এলাকায় মশার প্রজননক্ষেত্র শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির ট্রে, ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি কিংবা যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা। বিষয়গুলো তদারকি করতে জেলা প্রশাসনের টিম মাঠে থাকবে।