ফাইল ছবি
টানা বৃষ্টিকে অজুহাত করে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে নগরীর দ্বিগু বাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়।
এছাড়া চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটোর বাজারও বেশ চড়া। প্রকারভেদে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস।
সবজির পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও। বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে।
শাকের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে স্বস্তি রয়েছে মুরগির বাজারে। গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মুরগি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬৫ টাকা, সোনালি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাষাঢ়া বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। অনেক ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে। এ কারণে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
তবে ক্রেতারা এ যুক্তি মানতে নারাজ। নগরীর দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, বৃষ্টি হলেই সবজির দাম বেড়ে যায়। কিন্তু বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই। সব দোকানেই পর্যাপ্ত মাল রয়েছে। তাহলে শুধু দাম কেন বাড়বে?
আরেক ক্রেতা রোকসানা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগেও যে সবজি ৪০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৬০ বা ৭০ টাকা। সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টি ও সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। তারা বাজারে নিয়মিত মনিটরিং বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

