ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এলাকা এবং ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের কয়েকটি মৌজা ও এলাকার অংশ নাসিকের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসক ও সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ ও সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩-এর ধারা ৫ অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী কুতুবপুর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এলাকা নাসিকের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ফতুল্লা ইউনিয়নের কায়েমপুর, হাজীগঞ্জ, তল্লা, খাঁনপুর, সবুজবাগ, পূর্ব সন্তাপুর, পূর্ব ইসদাইর, চানমারী ও তৎসংলগ্ন কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।
কাশীপুর ইউনিয়নের বড় দেওভোগ এলাকার একটি অংশ এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাসদাইর মৌজার নির্দিষ্ট অংশও সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। মাসদাইর এলাকার গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, রংপুর হাউজ, জামাল ভিলা, মাসদাইর কবরস্থান, প্রগতি ক্লাব ও আশপাশের এলাকাও প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের আওতায় রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত এলাকাগুলো সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের কোনো পরামর্শ বা আপত্তি থাকলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিতভাবে জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে আইন অনুযায়ী জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনগণের মতামত ও আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণের দাবি দীর্ঘদিনের। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কারণে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের অংশ নাসিকের আওতায় আনার বিষয়টি বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। এবার সেই উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জনমত গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

