মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ৩০ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বেতন ও কারখানা চালুর দাবিতে ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৫৪, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেতন ও কারখানা চালুর দাবিতে ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

বিক্ষোভ

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বন্ধ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইউনাইটেড এ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকেরা। 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের মাসদাইর পুলিশ লাইনের সামনে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে প্রায় ৪৫ মিনিট যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে ওই পথে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে না পাওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার ও সোমবার কারখানাটিতে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকেরা। এ সময় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করে বেতন পরিশোধের জন্য সময় চাইলেও শ্রমিকেরা তাতে সম্মত হননি।

এরই মধ্যে সোমবার মালিকপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট, নতুন ক্রয়াদেশের ঘাটতি এবং ব্যাংকিং জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বেতন পরিশোধে বিলম্বের কথা জানানো হয়। পরে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা উল্লেখ করে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকেরা বিক্ষোভে নামেন। শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক নেতা হাসনাতের নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ শ্রমিকের মধ্যে অর্ধেক নেতা-কর্মীদের কার্যালয়ে যান। বাকিরা মাসদাইর পুলিশ লাইনের সামনে সড়কে অবস্থান নেন।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কারখানার ভেতরে মালিকপক্ষ, শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ারুল হক জানান, বেতন পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে দুই থেকে তিন দফা বৈঠক করেছে। তবে সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। মঙ্গলবারের অবরোধের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।

এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে দাবি করা হয়েছে, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং জরুরি রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।