শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ২৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ছয় বছর নেই প্রধান শিক্ষক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:০০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছয় বছর নেই প্রধান শিক্ষক

প্রতীকী ছবি

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই ছয় বছরেরও বেশি সময় পার করেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আদমজী মার্চেন্ট ওয়ার্কার্স (এম ডব্লিউ) উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক গাজী নাজমুল হুদাকে স্বপদে পুনর্বহালের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের পরও তার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি ৩ বছর ধরে নিষ্পত্তি হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রধান শিক্ষক গাজী নাজমুল হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলে। বিষয়টি এক পর্যায়ে আদালত ও শিক্ষা বোর্ড পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের পর বিষয়টি বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩-এর এক পত্রে গাজী নাজমুল হুদাকে স্বপদে পুনর্বহালের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পত্রে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত ও আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির মতামতের পর ২১ আগস্ট ২০২৩ অনুষ্ঠিত ২২৮তম বোর্ড সভায় তার পুনর্বহালের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। পত্র ইস্যুর ১৫ দিনের মধ্যে তাকে পুনর্বহাল করে বোর্ডকে অবহিত করার জন্যও বলা হয়েছিল। ৩ বছর পার হলেও যোগদানের বিষয়টি ঝুলে আছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছয় বছরের বেশি সময় প্রধান শিক্ষকবিহীন থাকা স্বাভাবিক নয়। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশে পড়ছে।

প্রধান শিক্ষক গাজী নাজমুল হুদা বলেন, আমি নতুন করে কোনো সুবিধা চাইছি না। শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার দায়িত্বে যোগদানের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পেয়েছে। শিগগিরই আমার যোগদানপত্র গ্রহণ করা হবে বলে আশা করছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার যোগদানের বিষয়টি ঠেকাতে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। নানা উপায়ে বিষয়টি জটিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছি। প্রধান শিক্ষক গাজী নাজমুল হুদার যোগদানের বিষয়টিও আমাদের নজরে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পক্ষের চাপ বা প্রভাবের কাছে না গিয়ে নথিপত্র, শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান শিক্ষক গাজী নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে অতীতে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে। অন্যদিকে গাজী নাজমুল হুদার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষা বোর্ড তাকে স্বপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি নিষ্পত্তির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের আদেশ বা স্থগিতাদেশ এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রধান শিক্ষক-সংক্রান্ত জটিলতার আইনসম্মত সমাধান প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, নথিপত্র ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হলে দীর্ঘদিনের এই জটিলতার অবসান হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।