ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পরিধি বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের পুরো এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মতামত দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জনসংখ্যা, পেশা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনমত বিবেচনায় এসব ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ এবং সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এলাকা সম্প্রসারণের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত ও মতামতসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার পর সিটি করপোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে গত ২৭ জুলাই ও ১১ আগস্ট গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে পাওয়া মতামত এবং পরবর্তী সময়ে সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে ড্রোন ফুটেজসহ প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে দাখিল করে।
গণশুনানি ও পরিদর্শন প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসন মতামত দিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
প্রতিবেদনে এসব এলাকা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে জনসংখ্যা, মানুষের পেশাগত বৈশিষ্ট্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অবকাঠামোগত অবস্থান এবং জনমতকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসনের মূল্যায়নে বিদ্যমান নগর কাঠামোর সঙ্গে এসব এলাকার সামঞ্জস্য এবং নগর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত মতামত এখন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগরের পুরো এলাকা নাসিকের আওতায় আসবে কি না, সেটি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
প্রশাসনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান সীমানা আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি এসব এলাকার নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে সীমানা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জেলা প্রশাসনের সুপারিশের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সম্প্রসারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

