ফাইল ছবি
ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা-বাবার বিরোধের কারণে ছয় দিন ধরে হিমঘরে থাকা নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের (৩২) মরদেহ অবশেষে ইসলামি নিয়মনীতি মেনে দাফন করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে শুভর মরদেহ দাফন করা হয়।
এর আগে শুভর মরদেহ দাফন নাকি দাহ করা হবে, তা নিয়ে তাঁর মা আয়েশা বেগম ও বাবা হরি চন্দ্র দাসের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে হাইকোর্ট ইসলামি রীতিতে শুভর মরদেহ দাফনের নির্দেশ দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে শুভর মা পার্বতী রানী দাস তাঁর তিন সন্তানসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরের পর তাঁর নাম রাখা হয় আয়েশা বেগম। দুই ছেলের নাম পরিবর্তন করে মো. বিল্লাল ও ইব্রাহিম রাখা হয়। তবে শুভর জাতীয় পরিচয়পত্রে আগের নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, শুভর মায়ের আবেদনের পর প্রথমে মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর বাবা আইনজীবীর মাধ্যমে হিন্দু রীতিতে শেষকৃত্যের আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। পরবর্তীতে শুভর মা ও ভাই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এ হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে সাথে ডিবি পুলিশ সুপারের নির্দেশে ছায়া তদন্ত শুরু করি। ঘটনার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। এর মধ্যে দুইজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এবং একজনকে রিমান্ডে নেই। সেই রিমান্ডের তথ্য অনুযায়ী একটি অস্ত্র আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুভকে ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার পর রোববার রাতে মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, ইয়াবার প্রলোভন দেখিয়ে শুভর এক সহযোগীর মাধ্যমে তাঁকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে রিমান্ডে থাকা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে একটি ঝোপ থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

