বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সাক্ষ্য দিলেন শহীদ ছাত্রদল নেতা স্বজনের ভাই

প্রকাশিত: ২০:০৯, ১০ জুন ২০২৬

সাক্ষ্য দিলেন শহীদ ছাত্রদল নেতা স্বজনের ভাই

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্রদল নেতা আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই মো. আবুল বাশার অনিক। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অয়ন ওসমানের ছোড়া গুলিতে তার ভাই স্বজন মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে আবুল বাশার অনিক আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি ও তার ছোট ভাই আবুল হাসান স্বজন নিয়মিতভাবে আন্দোলনে অংশ নিতে শুরু করেন। আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

সাক্ষ্যে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি লিংক রোড এলাকায় আন্দোলন চলাকালে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, ডিস বাবু, ছাত্রলীগ নেতা শুভ ও সোহানুর রহমান শুভ্রসহ বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। ওই ঘটনায় কয়েকজন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন বলেও তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।

জবানবন্দিতে ৫ আগস্টের ঘটনাও তুলে ধরেন অনিক। তিনি বলেন, সেদিন সকালে তিনি ও তার ভাই কুশিয়ারা এলাকার বাসা থেকে চাষাঢ়া অভিমুখে আন্দোলনে যোগ দিতে বের হন। শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে মিশনপাড়া এলাকায় অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর চাষাঢ়া মোড় ও ল্যাবএইড হাসপাতালের গলির কাছে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়েন তারা।

আবুল বাশার অনিকের দাবি, হামলার সময় অয়ন ওসমানের হাতে থাকা পিস্তল থেকে ছোড়া একটি গুলি তার ভাই আবুল হাসান স্বজনের বুকে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়েছিল। পরে ঢাকা মেডিকেলে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর কিছু সময়ের জন্য স্বজনের জ্ঞান ফিরেছিল।

সাক্ষ্যে আবেগঘন একটি মুহূর্তের কথাও উল্লেখ করেন অনিক। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার পর স্বজন প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, ‘হাসিনার পতন হয়েছে কি না।’ তাকে জানানো হয় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তখন তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান।

তবে সেই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরদিন ৬ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবুল হাসান স্বজন। পরে ৭ আগস্ট গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে আবুল বাশার অনিক দাবি করেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা, গুলিবর্ষণ এবং তার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শামীম ওসমান, অয়ন ওসমানসহ মামলার অভিযুক্তদের বিচার হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, এ মামলায় শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার কার্যক্রম চলছে। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।