আলোচনা সভা
নারায়ণগঞ্জে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, বস্ত্র ও বৃক্ষ বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ফতুল্লার চৌধুরী বাড়ী পারিবারিক মিলনায়তন মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি বীরত্বের সঙ্গে সম্মুখ সমরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। যুদ্ধ-বর্তী সময়ে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বিশেষ বাহিনী ‘জেড ফোর্স’ এর অবদান এদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।”
সাবেক শাসকদলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই নিজেদের দলকে ধ্বংস করেছে। আজ দলটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা জনগণের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছেন। বিএনপির আদর্শিক কোনো নেতা-কর্মী কখনো অন্যায় কাজে জড়াতে পারেন না। মানুষের কাজ করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে শুধরে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন রবিন, ফতুল্লা থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ টিপুসহ ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বস্ত্র এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

