ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আলোচিত মস্তকবিহীন আব্রাহাম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোবারক মন্ডলকে (৪৭) ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দেশে আনার পর আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
বুধবার (২৭ মে ২০২৬) সকালে তাকে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, আড়াইহাজার থানার মামলা নং-১৪, তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের এ মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার আভিযানিক দল গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত আসামি মো. রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বি (২৬)কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে আড়াইহাজার উপজেলার শ্রীনিবাসদী এলাকার একটি বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে মস্তকবিহীন এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার বাসিন্দা আব্রাহাম খান প্রকাশ আলিম খান (২৭)।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, নিহত আব্রাহাম খানের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামি রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে আব্রাহাম তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এর জের ধরে রাব্বি, তার খালা এবং অন্যান্য সহযোগীরা মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে আসেন মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক মন্ডল। পরে ১৫ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আব্রাহামকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তা গোপন করার চেষ্টা করা হয়, যাতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়।
ঘটনার পর মোবারক মন্ডল পুনরায় বিদেশে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া ও ইন্টারপোলের সহায়তায় কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার আরও কয়েকজন আসামি, বিশেষ করে রুহুল আমিন রাব্বির খালা ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

