ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে বহুল প্রত্যাশিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জনবল, অবকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বিবেচনা করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
একই অধিবেশনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন সরকারি হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জানান, রোগীর চাপ কমাতে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র এবং বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের সংকট ও চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) এবং স্থানীয় ক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ওষুধ চুরি ও অপব্যবহার রোধে ই-ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু এবং ওষুধের মোড়কে বারকোড ও কিউআর কোড ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উচ্চ জনঘনত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা চালুর কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে সরকারের এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার লাখো মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এমপি আল আমিন।

