ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ শহরে বেড়েছে মশার উপদ্রব। সামনে ডেঙ্গু মৌসুমকে ঘিরে মশার এই উপদ্রব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি মার্চ মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে শহরে মশার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর বড় অংশই কিউলেক্স মশা, যা নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
এদিকে মশক নিধনে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। মশক নিধন কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভাও করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং নালা–নর্দমায় জমে থাকা পানি এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ বছর শীত তুলনামূলক কম হওয়ায় উষ্ণ আবহাওয়া আগেভাগেই শুরু হয়েছে। ফলে মশার বংশবিস্তারও দ্রুত বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে শহরের খাল, ড্রেন ও জলাশয়ের দূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই মশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শহরের চাষাঢ়া, দেওভোগ, সিদ্ধিরগঞ্জ, মাসদাইর, খানপুর ও কদমতলী এলাকাযর বাসিন্দারা মশার তীব্র উৎপাতের কথা জানিয়েছেন। অনেক জায়গায় নালা–নর্দমা ময়লা ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় সেখানে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
কিউলেক্স মশা সাধারণত নর্দমা ও দূষিত পানিতে জন্মায়। এসব স্থানে ময়লা জমে থাকলে সেখানে সহজেই মশার লার্ভা তৈরি হয় এবং দ্রুত বংশবিস্তার ঘটে। এর ফলে দিনের বেলাতেও মশার উৎপাত বেড়ে যাচ্ছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, এখন ঘরের বারান্দায় বা ছাদে বসা পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সন্ধ্যার পর তো বটেই, এখন দিনের বেলাতেও মশার উপদ্রব সহ্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। মশার কামড়ে চুলকানি, ত্বকের জ্বালা ও অস্বস্তি বেড়ে যাচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক নালা–নর্দমা আবর্জনা ও প্লাস্টিকে আটকে আছে। কোথাও কোথাও পানি জমে ছোট ছোট ডোবা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও ডিপ ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় শহরজুড়ে খানাখন্দ বেড়েছে। এসব স্থানই মশার প্রজননের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এছাড়া অনেক খাল ও জলাশয় কচুরিপানা ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনের জন্য মাঝে মাঝে ফগিং করা হলেও তাতে স্থায়ী সমাধান মিলছে না। কারণ ফগিং মূলত পূর্ণবয়স্ক মশা কমাতে কার্যকর হলেও লার্ভা ধ্বংসে তেমন ভূমিকা রাখে না।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, মশক নিধনের জন্য আমি সাত আট জনের তদারকি কমিটি করছি। তারা কোথায় ঔষধ দিচ্ছেন সেটা তদারকি করবে এবং আমাকে এসে বলবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নাগরিকদেরও এ ব্যাপারে সচেতন করবো। এছারাও আমরা ডোবা, পুকুর ও খালগুলোর কচুরিপানা ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করবো। যেন মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা যায়।

