ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার কায়েমপুরে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানির সংকটে ভুগছেন হাজারো বাসিন্দা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগে যে পানির পাম্পটি ওয়াসার অধীনে পরিচালিত হতো, পরে সেটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে পানির সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় পানিটুকুও ঠিকমতো সংগ্রহ করতে পারছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পাম্পটি অনেক পুরোনো হয়ে যাওয়ায় এর কার্যক্ষমতা আগের মতো নেই। দীর্ঘদিন ধরে পাম্পটির বড় ধরনের কোনো সংস্কার বা আধুনিকায়নও করা হয়নি। পাশাপাশি এলাকাজুড়ে যে পানির পাইপলাইন রয়েছে সেগুলোর অনেকগুলোই বহু বছর আগে স্থাপন করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও লিকেজও দেখা দিয়েছে। ফলে পানির চাপ কমে গিয়ে অধিকাংশ বাড়িতেই পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না।
বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার সময় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ থাকে। এই সময় পানির চাপ এতটাই কম থাকে যে অনেকেই কল খুলেও পানি পান না। ফলে রান্না-বান্না, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজেও ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে দূরবর্তী জায়গা থেকে পানি সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ কেউ মোটর চালিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করছেন।
এদিকে সামনে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঈদের সময় ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রান্নাবান্না এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে পানির ব্যবহার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। কিন্তু এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ঈদের প্রস্তুতি নেওয়া নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা হাসান মেহেদী শ্যামল বলেন, “সামনে ঈদুল ফিতর। এই সময় পানির প্রয়োজন আরও বেশি থাকে। কিন্তু আমরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। অনেক সময় এমন অবস্থা হয় যে রান্না করাও কঠিন হয়ে যায়। তাই আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, দ্রুত পাম্পটি মেরামত বা নতুন পাম্প স্থাপন এবং পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে এলাকাবাসী এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।”
তিনি আরও জানান, শুধু বাসাবাড়িই নয়, অনেক সময় মসজিদেও অজুর প্রয়োজনীয় পানিটুকু পাওয়া যায় না। অথচ এই পাম্পের পানির ওপর আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষও নির্ভরশীল।
অন্যদিকে সিটি পাম্পের প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জুবায়ের জানান, পাম্পে পানির ওঠার পরিমানে কোনো সমস্যা নেই। আমাদের পাম্পে যথেষ্ট পরিমাণে পানি উঠছে। এখানে পাম্পে কোনো সমস্যা নেই। তবে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি যে অনেক এলাকায় মানুষ পানি পাচ্ছেন না। মানুষ পাম্পে সমস্যা আছে ভেবে এখানে এসে দেখছেন, তখন আমরা তাদের দেখাচ্ছি যে পাম্পে পর্যাপ্ত পানি উঠছে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের তদারকি দল এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা মাঠে কাজ করছেন। তাদের ধারণা, কোথাও পাইপলাইনে লিকেজ বা পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে পানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ার জুবায়ের বলেন, হয়তো মাটির নিচে বা কোনো ড্রেনের ভেতরে পাইপ ফেটে গেছে। সেটি শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি। আমাদের তদারকি দল এবং ঠিকাদাররা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তারা দ্রুত পাম্পটি সংস্কার বা নতুন পাম্প স্থাপন এবং পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। তাদের আশা, ঈদের আগেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে কায়েমপুরবাসী স্বস্তিতে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারেন।

