ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় একটি বাসায় চুরির ঘটনায় জড়িত দুইজন পেশাদার চোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-বন্দর উপজেলার চৌরঙ্গপাড়া এলাকার হাবিব মিয়ার ছেলে মো.পারভেজ ও বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার মাঝকান্দিরচর এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মিয়াজ।
গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরের দল মো. জহিরুল ইসলাম (৪৪) এর ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার বাসার দরজার তালা খুলে সঙ্গোপনে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা নগদ ২৫ হাজার টাকা, ৮টি স্বর্ণের চেইন, ১টি স্বর্ণের গলার হার, ৬টি স্বর্ণের আংটি এবং একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের ওজন প্রায় ৭ ভরি এবং এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ লাখ টাকার বেশি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এর নির্দেশনায় এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নান এর তত্ত্বাবধানে দ্রুত অভিযান শুরু করে পুলিশ।
মামলা রুজুর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন, এসআই মো. রফিক ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে ফতুল্লা থানাধীন রহিম চৌধুরীর বাড়ির তিনতলার একটি কক্ষ থেকে দুইজনকে আটক করে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানায় , গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা চুরির বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তাদের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত ৭টি স্বর্ণের চেইন, ২টি নেকলেস, ১টি ব্রেসলেট, ৪টি কানের দুলসহ মোট ৫ ভরি ১৪ আনা ৫ রতি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া দুইজনই পেশাদার চোরচক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির তালা ভেঙে সঙ্গোপনে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

