ফাইল ছবি
সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় এখন খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। একই সঙ্গে প্রায় সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) শহরের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে মানভেদে ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও একই মরিচের কেজি ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।
কাঁচামরিচের পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙা ও কাকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
শাকের বাজারেও স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, লাউশাক ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকায়। দেশি ধনেপাতার কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ টাকা। কাঁচা কলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস এবং কেপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও দাম কমেনি। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও বেশিরভাগ মাছের দাম চড়া। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।
চাষাঢ়া বাজারে সবজি কিনতে আসা চাকরিজীবী মো. আরিফ হোসেন বলেন, "প্রতিদিনই বাজারে এসে নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এসে এখন দুই-তিন ধরনের সবজি কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কাঁচামরিচ এখন যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।"
ফতুল্লার এক গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, "আগে এক সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করতাম। এখন প্রতিদিন অল্প অল্প কিনতে হচ্ছে। কারণ প্রতিদিনই দাম বদলে যাচ্ছে।"
কালীরবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, কয়েক দিন ধরে পাইকারি বাজারেই মরিচ ও সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য আসছে না। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে মরিচ ও মৌসুমি সবজির উৎপাদন কমে গেছে। সরবরাহ সংকটের প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে।
এদিকে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষাকালে সবজির দাম কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক হলেও কাঁচামরিচের দাম ৪০০ টাকায় পৌঁছানো অস্বাভাবিক। তারা বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

