ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ডাইং শিল্পে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনে প্রয়োজনীয় গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা বিকল্প হিসেবে সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস সংগ্রহ করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি তিতাস গ্যাসের নতুন নির্দেশনার পর সেই ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার শতাধিক ডাইং কারখানা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
শিল্প মালিকদের দাবি, গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে এমনিতেই বেশিরভাগ কারখানায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না। এখন সিলিন্ডারে গ্যাস সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অচিরেই অনেক কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সম্প্রতি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, যানবাহন ছাড়া খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যান কিংবা ট্রাকে সিএনজি সরবরাহ করা যাবে না। গ্যাস আইন ও বিদ্যমান বিধিমালার সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও রয়েছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন শিল্পকারখানার জন্য সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপাকে পড়েছে।
সোমবার নগরীর নতুন জেলখানা এলাকার একটি সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ডাইং কারখানার সিলিন্ডারবাহী গাড়ি গ্যাস সংগ্রহ করতে এসে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছে। গাড়িচালক জানান, কয়েকদিন ধরেই গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এখন সরকারি নির্দেশনার কথা জানিয়ে সরাসরি গ্যাস দিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে।
স্টেশনটির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নতুন নির্দেশনা পাওয়ার পর সেটি অনুসরণ করা হচ্ছে। শিল্পকারখানার জন্য আলাদাভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, ডাইং শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কাপড়ের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা সিএনজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছিল। এখন সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
তিনি বলেন, সমিতিভুক্ত প্রায় দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকগুলো এখন ন্যূনতম সক্ষমতায় চলছে। দ্রুত সমাধান না এলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনেক কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে রপ্তানি আদেশ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক শিল্প খাতে।
এদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান আগেই বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করায় তুলনামূলকভাবে সংকট সামাল দিতে পারছে। আড়াইহাজারের একটি ডাইং কারখানার পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুব খান হিমেল জানান, কয়েক বছর আগে থেকেই তারা ধানের তুষভিত্তিক বায়োমাস বয়লার ব্যবহার করছেন। ফলে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমেছে এবং উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
তবে তিনি বলেন, জেলার অধিকাংশ কারখানার সেই সক্ষমতা নেই। পাইপলাইনে গ্যাসের ঘাটতি এবং সিলিন্ডারে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত শিল্পকারখানার জন্য বিকল্প গ্যাস সরবরাহ বা বিশেষ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নারায়ণগঞ্জের ডাইং শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

