শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বৃষ্টি আর সরবরাহ সংকটে নারায়ণগঞ্জে চড়া সবজির বাজার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ১৭ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৫:৪১, ১৭ জুলাই ২০২৬

বৃষ্টি আর সরবরাহ সংকটে নারায়ণগঞ্জে চড়া সবজির বাজার

ফাইল ছবি

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে বেড়েছে শাক-সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। একইসঙ্গে বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) নগরীর দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা কেজি, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাঁচামরিচের বাজারও এখনও চড়া। বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ফতুল্লার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও যে সবজি ৫০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটি ৭০ বা ৮০ টাকা দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন।”

চাষাঢ়ার এক সবজি বিক্রেতা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি কম আসছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এজন্য দাম কিছুটা বেড়েছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩১০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলুর বাজার এখনও কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও মাংসের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত রয়েছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিম ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে সবজি ও মাছের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে ক্রেতাদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজারও আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।