বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ২৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বন্দর রেলগেইট জামে মসজিদের ৫ কোটি টাকার হিসাব চায় মুসল্লিরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:১৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দর রেলগেইট জামে মসজিদের ৫ কোটি টাকার হিসাব চায় মুসল্লিরা

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ বন্দর রেলগেইট জামে মসজিদ কমিটি গঠন ও দীর্ঘ ২৩ বছরের আর্থিক হিসাব- নিকাস নিয়ে সাধারণ মুসল্লী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বন্দর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডস্থ বন্দর রেলগেইট কলাবাগ জামে মসজিদে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছ। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই মসজিদে বৈষম্যবিরোধী মনোভাবের অংশ হিসেবে সাধারণ মুসল্লিগণ ও তরুণ সমাজ স্বৈরাচারী বা দলীয় প্রভাবযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ এবং ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলে। এ দাবির প্রেক্ষিতে ১৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত আহবায়ক কমিটিকে বিগত কমিটির দায়িত্ব পালনকারীরা প্রায় ৫ কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে গোপনে পকেট কমিটি গঠনের তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর কলাবাগ জামে মসজিদটি একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রয়াত হাজী শফিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোসলেউদ্দিন মাষ্টার। এছাড়া সহ-সভাপতি ছিলেন রফিকুল ইসলাম ও পিয়ার জাহান কমল এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রিপন ভূঁইয়া।
​স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, দীর্ঘ দুই যুগে মসজিদের দানবাক্স, অনুদান ও নিজস্ব মার্কেট থেকে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার বেশি আয় হলেও বর্তমান আহবায়ক কমিটিকে এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব বুঝিয়ে দেয়নি সাবেক কমিটি। এছাড়া মসজিদের মালিকানাধীন ৬টি দোকানের মধ্যে ৩টি দোকান বিগত সরকার আমলে তৎকালীন সভাপতির পরিবারের সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে এককভাবে ভোগদখলে রেখেছিলেন।
​সংশ্লিষ্ঠ সূত্র আরো জানায়, নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেপথ্যে চলছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের তোড়জোড়। বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামকে সভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পিয়ার জাহান কমলকে সাধারণ সম্পাদক করার একটি গোপন প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা মাঈনুদ্দিন মানুসহ একটি প্রভাবশালী বলয় এর পেছনে কাজ করছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। উল্লেখ্য, সভাপতি পদপ্রত্যাশী রফিকুল ইসলামের ছেলে বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ মোহাম্মদ রকি সরকার পতনের পর থেকেই দেশ ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
এদিকে রফিকুলগং ​মসজিদকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্র বানানোর অপচেষ্টায় ফুসে উঠেছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তাদের দাবি, দ্রুত উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে বিগত ২৩ বছরের আয়-ব্যয়ের পাই-পাই হিসাব দিতে হবে। একই সঙ্গে হত্যা মামলার আসামি বা কোনো রাজনৈতিক সুবিধাভোগীকে বাদ দিয়ে এলাকার সৎ, ধার্মিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করতে হবে।
​এ বিষয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মসজিদ কমিটির পদকে নেতৃত্ব মনে করা চরম বোকামী। মসজিদ কমিটির কোথাও জায়াগা হলে এটাকে নিছক খেদমত মনে করা দরকার। এ খেদমত আল্লাহর ঘরের খেদমত। মুসল্লিদের খেদমত। তাই দুনিয়ার কোনো চাওয়া-পাওয়া ব্যতিরেকে মুক্তমনে শুধু আল্লাহ্তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছায় ইবাদত মনে করে খেদমতের মানসিকতা নিয়ে কমিটিতে অংশ নিতে হয়। সামাজিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির অভিলাষে কমিটিতে যোগ দেওয়া হারাম। মসজিদ কমিটি গঠনে রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক প্রভাব মসজিদের স্বাভাবিক পরিবেশ ও দ্বীনি কার্যক্রমের ওপর গভীর নেতিবাচক বা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলে।