ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ১০ যুবককে একটি বাসায় নিয়ে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চক্রটির মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ দল। একই অভিযানে জিম্মিদশায় থাকা ১০ যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-১১।
এর আগে মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রূপগঞ্জ থানার রূপসী কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার ছুফিবাড়ি এলাকার মৃত আকমল মিয়ার ছেলে এবং কথিত অপহরণ চক্রের মূলহোতা সিরাজুল ইসলাম (২৯) এবং পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থানার চলিতাবানি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে অমিত হাসান (২৩)।
র্যাবের তথ্যমতে, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘যেকোনো শপিংমলে সেলসম্যান’ পদে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে ওই ১০ যুবক প্রতারিত হন। চাকরির কথা বলে তাদের রূপগঞ্জ থানার তারাব পৌরসভার উত্তর রূপসী (কলাবাগান) এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চাকরি নিশ্চিত হয়েছে বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রসেসিং ফি বাবদ ৭ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। ১০ জনের কাছ থেকে মোট ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাদের চাকরি না দিয়ে ওই বাসায় আটকে রাখা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
অভিযোগ রয়েছে, তিন থেকে চার দিন ধরে তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীরা খাবার চাইলে কিংবা সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে চক্রটির মূলহোতা সিরাজুল ইসলাম ও অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে জিম্মি অবস্থায় থাকা ১০ যুবককে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

