বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা শুভ চন্দ্র দাস হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মামলার আসামি সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত ও তদন্তে উঠে আসা আসামিদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পরবর্তীতে এজাহারভুক্ত আসামি সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করে ডিবি।
পুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল রিমান্ডে থাকা সুমনকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন নবাব সলিমুল্লাহ রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামির দেখানো স্থানে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ গজ পূর্বে ফুটপাতের পাশে গাছের ঝোপঝাড়ের মধ্যে একটি শপিং ব্যাগে লুকানো অবস্থায় পিস্তল ও ম্যাগাজিনটি পাওয়া যায়।
উদ্ধার হওয়া পিস্তলটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক সাড়ে সাত ইঞ্চি। এর ব্যারেলে ইংরেজিতে ‘MADE IN USA 7.65 MM’ লেখা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পিস্তলটির সঙ্গে একটি ম্যাগাজিনও উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে নিয়মিত জব্দ তালিকার মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়। এ সময় জব্দ তালিকায় উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পূর্ববিরোধ ও মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শুভ চন্দ্র দাসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্যও তদন্তে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এদিকে মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার করা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের হেফাজত বা দখলে রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে দ্য আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৭৮-এর ১৯(এ) ধারা অনুযায়ী মামলা করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

