বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ২৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

কদমরসুল সেতু নির্মাণে উচ্ছেদ এলাকা পরিদর্শন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:৪৪, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কদমরসুল সেতু নির্মাণে উচ্ছেদ এলাকা পরিদর্শন

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোডের কালীবাড়ী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত কদমরসুল সেতু নির্মাণকে ঘিরে উচ্ছেদ সীমানা ও আশপাশের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এ সময় এলজিইডির উপ-পরিচালক লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এমপি আবুল কালাম। তিনি বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে কার্যত দুই অংশে বিভক্ত করে রেখেছে। বন্দর থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নদী পার হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকট নিরসনে প্রস্তাবিত কদমরসুল সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

আবুল কালাম বলেন, অতীতে রাজনৈতিক নানা কারণে এ প্রকল্পটি হয়তো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। বর্তমানে তারেক রহমান সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নির্দেশনায় জাইকা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যৌথ অর্থায়নে সেতুটির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সেতু নির্মাণের জন্য উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুরো উদ্যোগটি জনস্বার্থ ও নগরায়ণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নেওয়া হয়েছে। তবে এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেতুর নির্মাণকাজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন এমপি আবুল কালাম।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, কদমরসুল সেতু নারায়ণগঞ্জের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের যাতে অযথা ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও সংশ্লিষ্ট রয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন সহনশীল থাকবে। সেতু নির্মাণের কারণে যেসব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের তালিকা করে পুনর্বাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ধর্মীয় স্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, মসজিদ ভেঙে ফেলার কোনো বিষয় নেই। একইভাবে কালীবাড়ী মন্দিরের মূল কাঠামোও অক্ষত রাখার চেষ্টা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেতু ও মূল সড়কের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকা অবৈধ স্থাপনা বা মাজারের জায়গা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সেতু নির্মাণের মতো বড় একটি জনস্বার্থের প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে সড়ক দখলমুক্ত করতে হকারদের নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও দ্রুত করা হবে।

এদিকে উচ্ছেদ কার্যক্রমের সম্ভাব্যতা সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কালীবাড়ী মন্দিরের বিপরীত পাশের কয়েকটি দোকানের মালিক নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ কলেজের সামনের দোকানগুলোর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের দুই দিনের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর তৃতীয় দিনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন, এনডিসি তারিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ, এলজিইডির উপ-পরিচালক লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।