ফাইল ছবি
ঈদ-উল-ফিতরের পরপরই নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট ও হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমন্বিতভাবে মাঠে নামছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম জানিয়েছেন, রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যায়নি। তবে ঈদের পর থেকেই সড়ক দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রমজানে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করেছি। কিন্তু ঈদের পর আর ছাড় দেওয়া হবে না। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে সড়কে চলাচল করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ভ্যানগাড়ি, চৌকি ও অবৈধ দখলের কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
হকারদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ঈদের পর শহরে কোনো হকার চৌকি বা ভ্যান ব্যবহার করে বসতে পারবে না। তারা শুধুমাত্র চট বা ছোট টুকরিতে করে পণ্য নিয়ে রাস্তার এক পাশে বসতে পারবেন। একাধিক লাইন করে বসার সুযোগ থাকবে না এক লাইনে সীমিত আকারে বসতে হবে। বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি শৃঙ্খলার মধ্যে হকাররা ব্যবসা করুক। সড়ক পুরোপুরি দখল করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।
সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে বাণিজ্যিক অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনা হতে পারে। প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহরবাসীর প্রত্যাশা, ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ শহরে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। এখন সবার দৃষ্টি ঈদের পর প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগের দিকে।

