শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২

|

অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

জ্বালানি সংকটে বন্ধ হতে পারে কারখানা, কর্মহীন হতে পারে লাখো শ্রমিক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:৪৪, ৭ নভেম্বর ২০২২

জ্বালানি সংকটে বন্ধ হতে পারে কারখানা, কর্মহীন হতে পারে লাখো শ্রমিক

ফাইল ছবি

দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারনে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটে দেশের অন্যতম রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের ফলে কারখানা মালিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন। 

এদিকে খুব দ্রুত এ সংকট থেকে পরিত্রান পাওয়া না গেলে যেকোন সময় কারখানাগুলো বন্ধ করে দিতে হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি হাতেম। আর এমনটা হলে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জেই কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন কয়েক লাখ শ্রমিক।

এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে একেবারেই কমে গেছে গ্যাসের চাপ। কোথাও কোথাও ১৮ ঘন্টা থাকছেনা গ্যাস। দীর্ঘ সময় হচ্ছে লোডশেডিংও। এমনটাই অভিযোগ কারখানা মালিকদের।

গার্মেন্টস মালিকরা জানান, বেশিরভাগ সময়ই কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে উৎপাদন ৪০-৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। 

অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটের ফলে বেশি দামে জ্বালানি কিনে জেনারেটরের মাধ্যমে কারখানাগুলো সচল রাখতে হচ্ছে। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে মালিকদের। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে যেকোন মুহুর্তে ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে এ সেক্টরে।

তৈরি পোশাক কারখানার ক্ষেত্রে বিদ্যুতের চেয়েও গ্যাসের সংকটের কারনে বেশি লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছে কারখানাগুলো। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমন পরিস্থিতিতে এলএমজি আমদানির মাধ্যমে সরকারের উচিত পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখা। ডলার খরচ করে যদি এলএমজি আমদানির মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পকে রক্ষা করা যায় তাহলে দ্রুতই প্রস্তুতকৃত পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে আমরা কয়েকগুণ বেশি ডলার এনে দিতে পারব।

এ বিষয়ে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ছত্রিশ বছর ধরে আমার এই ক্যারিয়ার। আমি ছত্রিশ বছর ধরে এ ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত আছি। এবারের মত সংকটের মুখোমুখি আমি অতীতে কখনও হইনি।

তিনি বলেন, আমি কতটুকু অর্ডার নেব তা তো বুঝতে পারছি না। অর্ডার নিয়ে যদি দিতে না পারি তখন তো উল্টো জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। গত দুই মাসে দুই আড়াইশ শ্রমিক ছাটাই করেছি আমি। কারন, কাজ নেই। তাদের তো বসিয়ে রেখে টাকা দেয়া সম্ভব না। প্রায় সকল ফ্যাক্টরিতেই একই অবস্থা। আবার শ্রমিকদের বেতনও আমরা সময়মত দিতে পারছি না। এটা তো ভয়াবহ অবস্থা

তিনি বলেন, আমাদের এক্সপোর্ট নেই। আমরা বেতন দিতে পারছিনা। গ্যাস সংকটের কারনে অর্ডার কমপ্লিট করতে পারছি না। এ ধরনের সংকট অতীতে আর কখনও দেখিনি। আমার নিজের ফ্যাক্টরি কখন বন্ধ করে দিতে হয় সেটাই ভাবছি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উপরের লেভেলে আমরা যাদের সাথে কথা বলছি ঘটনাটা যে কি হতে যাচ্ছে তারা হয়ত এটা রিয়েলাইজ করতে পারছে না। আমরা বলছি তারা এটা বুঝতে পারছে না। বুঝলে তারা কিছু একটা করতেন।