বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ২৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

না.গঞ্জে বিশেষ অভিযানে তিনদিনে গ্রেপ্তার ৩ শতাধিক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:১২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

না.গঞ্জে বিশেষ অভিযানে তিনদিনে গ্রেপ্তার ৩ শতাধিক

ফাইল ছবি

মাদক, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সাত থানায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিন দিনে ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৫, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক সময়ে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের পাশাপাশি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে জেলার সদর, ফতুল্লা, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার থানায় এসব অভিযান চালানো হয়।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম দিন ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সাত থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ১২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর একই সময়ের অভিযানে গ্রেপ্তার হন আরও ১০৬ জন। সর্বশেষ ৭ সেপ্টেম্বর পরিচালিত অভিযানে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৮ জনে।

প্রথম দিনের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। দ্বিতীয় দিনের অভিযানে ফতুল্লা থেকে ৩১ জন, সদর থেকে ২২ জন, রূপগঞ্জ থেকে ১৮ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ১৪ জন, বন্দর থেকে ১১ জন এবং সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার থেকে পাঁচজন করে গ্রেপ্তার করা হয়।

৬ সেপ্টেম্বরের অভিযানে ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বন্দর এলাকায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদকসেবী ও মাদকসহ আটক ব্যক্তির পাশাপাশি জিআর ও সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং ছিনতাইকারীও ছিলেন। সেখান থেকে গাঁজা, ৯ পিস ইয়াবা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার ও নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তৃতীয় দিনের অভিযানে ৭ সেপ্টেম্বর সাত থানায় আরও ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সদর মডেল থানায় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীসহ সাতজন, ফতুল্লায় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী, ওয়ারেন্টভুক্ত এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে মোট ২১ জন, রূপগঞ্জে ১০ জন এবং সিদ্ধিরগঞ্জে ১৪ জন গ্রেপ্তার হন।

এদিন ফতুল্লা থেকে তিন বোতল বিদেশি মদ, ১০ পিস ইয়াবা ও ছয় পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। রূপগঞ্জে ১০৬ বোতল ফায়ার ডিল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বন্দর থানায় ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি, ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, জিআর ও সিআর পরোয়ানাভুক্ত এবং পূর্বের মামলার আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া বন্দর এলাকায় দুটি মাদক মামলা দায়েরের পাশাপাশি ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সোনারগাঁও থানায় মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ ২০ জন এবং আড়াইহাজার থানায় মাদক মামলার আসামি, সিআর সাজাপ্রাপ্ত, সিআর পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাদক ব্যবসা ও সেবন, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতেই এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়ারেন্টভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, একক কোনো থানাকে কেন্দ্র করে নয়, জেলার সাতটি থানায় সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও মাদক সংশ্লিষ্ট স্পটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ।