প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে বর্ষাকালীন জনপ্রিয় সবজি কাকরোলের চাষাবাদ। স্থানীয় কৃষি খাত সূত্রে জানা গেছে, কেবল এই দুই উপজেলাতেই প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাকরোল উৎপাদিত হচ্ছে। তবে বাম্পার ফলন হলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট, বৈষম্যমূলক বাজারদর এবং তদারকির অভাবে চাষিদের মুখে কাঙ্ক্ষিত হাসি ফুটছে না।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই অঞ্চলে বংশানুক্রমিকভাবে কাকরোল চাষ হয়ে আসছে। বর্ষার মূল তিন মাস—আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র—কাকরোলের জমজমাট বিকিকিনি চলে। বর্তমানে আগাম জাতের কারণে বৈশাখ মাস থেকেই বাজারে মিলছে এ সবজি। রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিপুলসংখ্যক কৃষক পরিবার এই চাষের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তবে বাম্পার ফলন সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় চাষিরা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় হাটগুলোতে আসা পাইকাররা সিন্ডিকেট করে কাকরোলের দর বেঁধে দেন। বাধ্য হয়ে কৃষকদের কম দামে পাইকারদের হাতে ফসল তুলে দিতে হয়। যেখানে পাইকাররা প্রতি মণ কাকরোল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কেনেন, তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে—১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
পাশাপাশি কৃষি অফিসের মাঠ কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব এবং সরকারি কৃষিঋণ না পাওয়ার আক্ষেপও রয়ে গেছে কৃষকদের মধ্যে।
চাষিরা জানান, কষ্টার্জিত ফসলের বেশিরভাগ মুনাফাই চলে যাচ্ছে ফড়িয়া ও মহাজনদের পকেটে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, নিয়মিত পরামর্শ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় তদারকি জোরদার করা হলে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে কাকরোল চাষ আরও সমৃদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

