ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। প্রায় নয় মাস ধরে পলাতক থাকার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-১১ এর সিপিএসসি এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মোঃ নাঈম উল হক। প্রায় নয় মাস ধরে পলাতক থাকার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১১, সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে মো. সোহেব (৪২) এবং শাহী মসজিদ এলাকার বছিরের ছেলে মো. সুমন (৩৮) রয়েছেন। তারা উভয়েই বন্দর থানার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্দর থানার সালেহনগর এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেন ও তার ছেলে মুন্না পাওনা টাকা দাবি করলে বিরোধের একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর শুরু করে। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে আলমগীর হোসেনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে আলমগীর হোসেন মারা যান।
নিহত আলমগীর হোসেন বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার মৃত সোহবান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।
র্যাব-১১ জানায়, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রধান আসামি সোহেব ও তার সহযোগী সুমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

