শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২

|

অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জে প্রকাশ্যে অবৈধ গ্যাস লাইন দিয়ে চলছে কারখানা 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৭:৫৯, ২১ নভেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৭:৫৯, ২১ নভেম্বর ২০২২

রূপগঞ্জে প্রকাশ্যে অবৈধ গ্যাস লাইন দিয়ে চলছে কারখানা 

অবৈধ গ্যাস সংযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে তিতাস গ্যাসের অবৈধ আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে বানিজ্যিভাবে তামিম টেক্সটাইল নামে একটি তুলা কারখানা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে কারখানাটি চললেও প্রশাসন ও তিতাস কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিতাস গ্যাস অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতিমাসে মোটা অংকের মাসোয়ারার দিয়ে ম্যানেজ করে এ কারখানা চলছে স্থানীয়রা জানান। এ করে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 

জানা গেছে, উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী কলাবাগান এলাকায় তামিম টেক্সটাইল নামের কারখানাটি অবস্থিত। কারখানাটিতে ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। কারখানাটির মালিক নূর হোসেন নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি। বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পরিত্যাক্ত ও ময়লা তুলা কিনে এনে কারখানাতে ব্রয়লারের মাধ্যমে তুলাগুলো পরিষ্কার করা হয়। কারখানাটিতে ৩ টি  ব্রয়লার রয়েছে। কারখানার ৩ টি ব্রয়লারই গরম করা হয় অবৈধ গ্যাসের মাধ্যমে। কারখানার গ্যাস লাইনটি নি¤œমানের পাইপের মাধ্যমে আনা হয়েছে ওখানকার স্থানীয় আবাসিক লাইন থেকে। এতে করে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। কারখানাটিতে চলা ব্রয়লার তিনটিতে প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা বিল আসতে পারে। এছাড়া বানিজ্যিকভাবে গ্যাস সংযোগ নিতে খরচ হয় কয়েক লাখ টাকা। এ কারণে কারখানাটির মালিক স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে কারখানা চালাচ্ছেন। কারখানার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ তার অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। এদিকে গত ৩ বছর ধরে তার কারখানায় তিতাস গ্যাসের যাত্রামুড়া জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা মাধ্যমে ম্যানেজ কারখানা চালাচ্ছেন। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নি¤œমানের পাইপ লাইনের মাধ্যমে তামিম টেক্সটাইল কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হলেও তিতাস কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেটি খুবই দুঃখজনক। কারখানাটিতে তিনটি ব্রয়লার রয়েছে। ব্রয়লারগুলো বিস্ফোরণ করে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। কারখানাটির মালিক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আমরা এলাকাবাসী প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছিনা। দ্রুত গ্যাস সংযোগটি বিচ্ছিন্নের দাবি জানাচ্ছি।  

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে কারখানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক সোহাগের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি কয়েক মাস ধরে এ কারখানার দায়িত্বে আছি। গ্যাস সংযোগটি অবৈধ কিনা তার আমার জানা নেই।  
অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে কারখানাটির মালিক কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে রাগ দেখিয়ে  এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি।  

এ তিতাস গ্যাসের যাত্রামুড়া জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মিজবাউর রহমান বলেন, রূপসী এলাকায় ব্যান্ডেজ কারখানা অবৈধ গ্যাসে চলছে বলে তথ্য পেয়েছি। শীঘ্রই অবৈধ গ্যাস সংযোগ গুলো বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।