বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

|

ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সিদ্ধিরগঞ্জ প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ক্রয়ে বছরে ব্যয় হবে ৪২১৫ কোটি টাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৩:২৯, ১০ মার্চ ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ক্রয়ে বছরে ব্যয় হবে ৪২১৫ কোটি টাকা

ফাইল ছবি

দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমাগত ভাবে বাড়ছে। এই চাহিদার যোগান দিতে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) নির্মিত গ্যাসভিত্তিক সিদ্ধিরগঞ্জ ২x১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ বিভাগ। কেন্দ্রটিতে ১৬.৫ শতাংশ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর বিবেচনায় প্রতি বছর ৩০.৩৫ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। এই বিদ্যুৎ ক্রয়ে খরচ হবে ৪২১৫ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের আওতায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ১৯৯৬ সালের ২৩ নভেম্বর মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড গঠিত হয়।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) নামে পরিচিত হয় এবং ২০০৯ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) এর মালিকানার অংশীদারিত্ব হলো বিদ্যুৎ বিভাগ ৯৫.৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৪.২ শতাংশ।

ইজিসিবি কর্তৃক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর আর্থিক সহায়তায় সিদ্ধিরগঞ্জ  ২x১২০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় গ্যাসভিত্তিক সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

উল্লেখ্য, সিদ্ধিরগঞ্জ  ২x১২০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো)-এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে একটি সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ)  স্বাক্ষরিত হয়। ওই এসএলএ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর সঙ্গে ২০০৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখে স্বাক্ষরিত ঋণ চুক্তির আওতাভুক্ত। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ২৩ মার্চ তারিখে অর্থ বিভাগ ও ইজিসিবি লিমিটেডের মধ্যে পৃথকভাবে একটি এসএলএ স্বাক্ষরিত হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের লক্ষ্যে গত ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট তারিখে বাবিউবো এবং ইজিসিবি'র মধ্যে ২২ বছর মেয়াদী লেভেলাইজড ট্যারিফ চার্জ নির্ধারণ করে পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) স্বাক্ষরিত হয়। গ্যাস ভিত্তিক ২১০ মে.ওয়াট বিদ্যুৎ ২২ বছর মেয়াদে প্রতি কিলো ওয়াট ঘন্টার দাম নির্ধারণ করা হয় ১.৮৫৯০ টাকা।

গত ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মূল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গ্যাসের অপ্রাপ্যতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফরেন নন-এক্সেলেবল ক্যাপিসিটি পেমেন্ট-এর পরিশোধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনক্রমে পিপিএ-এর ১ম সংশোধনী স্বাক্ষর করা হয়, এর ফলে পিপিএ অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ অপরিবর্তীত থাকে। গত ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই লোকাল এক্সেলেবল ক্যাপসিটি প্রাইস ২৫.০৭২২/কি.ওয়াট-প্রতিমাসে এর স্থলে ৩১.০০/কি.ওয়াট-প্রতি মাসে এবং ফরেন এক্সেলেবল ক্যাপিসিটি প্রাইস মা.ডলার ১.১৯৮১/কি.ওয়াট-প্রতি মাস এর স্থলে মা.ডলার ১.৫০৪৩/কি.ওয়াট-প্রতি মাস নির্ধারণ করে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনক্রমে পিপিএ -এর ২য় সংশোধনী স্বাক্ষর করা হয়, এর ফলে পিপিএ অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ ২.০৩২২ /কি.ওয়াট ঘন্টা নির্ধারিত হয় এবং তা অপরিবর্তিত থাকে। পরে তা পুননির্ধারন করা হয়।

চতুর্থ সংশোধনীতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২.০২৫১ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডলারের বিনিময় হার সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় বিধায় প্রস্তাবিত লেভেলাইজড ট্যারিফ ও পূর্বের লেভেলাইজড ট্যারিফ একই রেফরেন্সে এ তুলনা করার জন্য ১ ইউএস ডলার ৭৩.০০ ভিত্তিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মাসিক বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে এই বিনিময় হারের কোন কার্যকারিতা নেই, শুধুমাত্র লেভেলাইজড ট্যারিফ নির্ধারণ করার জন্য উক্ত বিনিময় হার ব্যবহার করা হয়েছে। মাসিক বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী মাসের ১ম কার্যদিবসের ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য, বর্তমান গ্যাসের দাম ৪৩৮.৯১ টাকা/১০০০সিএফটি এবং এক্সচেঞ্জ রেট (১ ইউএসডি=১২২.৮ টাকা) বিবেচনায় বাবিউবো থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৩য় সংশোধনী ৩১.২০১৫ পর্যন্ত  ৩.৩৭৩৪ টাকা/কি.ওয়াট ঘন্টা এবং প্রস্তাবিত ৪র্থ সংশোধনী ১.৮.২০২৫ পর্যন্ত ৩.৩৬৬৪ টাকা/কি.ওয়াট ঘন্টা ধরা হয়েছে। জানা গেছে, নতুন ট্যারিফ অনুমোদিত হলে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ১.০৩৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন একটি সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (অংশীদারিত্ব: বিদ্যুৎ বিভাগ ৯৫.৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৪.২ শতাংশ)। সে হিসেবে, ‘সিদ্ধিরগঞ্জ ২x১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র’ এর সংশোধিত ট্যারিফ অনুমোদিত হওয়ার পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রয় হতে যে পরিমাণ লভ্যাংশ অর্জিত হবে তা সরকারের লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।