রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

|

আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধনে আসেননি বিএনপি নেতা ও আইনজীবীরা!  

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩

নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধনে আসেননি বিএনপি নেতা ও আইনজীবীরা!  

বিএনপির মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা মামলা ও গ্রেপ্তার আতংকে আত্মগোপনে থাকলেও বিগত যেকোন সময়ে আদালত প্রাঙ্গণে দলের কর্মসূচীগুলো পালন করতে দেখা গেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। এবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচীকে মানববন্ধন দলের পক্ষ থেকে আদালত এলাকায় হলেও এতে দলের একজন আইনজীবী ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি।

আইনজীবীদের এহেন কর্মকান্ডে নারায়ণগঞ্জে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাও নিখোঁজ বলে অভিহিত করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। 

অথচ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু দুজনই আইনজীবী। তাদের নেতৃত্বে থাকা মহানগর বিএনপির প্রায় প্রতিটি ইউনিটে নিজ নিজ অনুগত আইনজীবীদের তারা পদায়ন করিয়েছেন। সেই আইনজীবীদের কাউকে দেখা যায়নি কর্মসূচীতে। আইনজীবীদের অনেকে রয়েছেন মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের মূল দায়িত্বেও।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপির মানববন্ধনের খবর এদিন সকাল থেক আদালতপ্রাঙ্গণে এসে হাজির হল দলের গুলিবিদ্ধ, নিহত, কারাবন্দি, হামলা মামলার শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। এসে আদালতপ্রাঙ্গণে কোন আইনজীবীর সহায়তা পাননি তারা। এমনকি বিএনপির কোন আইনজীবী তাদের সাথে কথা বলতেই উপস্থিত ছিলেন না সেখানে। 

রোববার (১০ ডিসেম্বর) আন্তজার্তিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এ মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে বিএনপি। মানববন্ধনকে ঘিরে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

এদিকে মানববন্ধনে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনে শিকার দাবি করে উপস্থিত হলেও বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। সেখানে বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন তাদের নিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে মানববন্ধন শুরু করেন।  

এসময় বক্তব্য চলাকালে জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া এতে বাধা দেয়। এ সময় মানববন্ধন পন্ড করে বিএনপি আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন এবং তাকে আদালত থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার পরেও একজন আইনজীবী তার পাশে এসে দাঁড়াননি। 

এসময় জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে বলতে শোনা যায়, আইনজীবী ছাড়া বাইরের লোকজন নিয়ে এখানে কর্মসূচী করবা এটা কেমন কথা? আইনজীবীদের নিয়ে কর।

পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এখানে লাঞ্ছিত করার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। এখানে কি উনি আইনজীবী হিসেবে এসেছেন? আদালতে কেউ বাইরের লোক নিয়ে কোন আইনজীবী এখন পর্যন্ত কর্মসূচী করেননি। উনি কিভাবে বাইরের থেকে মহিলাদের এনেছেন এখানে। বারের অনেক মহিলা আইনজীবীরা আছে, তাদের নিয়ে উনি কর্মসূচী করতে পারতেন। সে যেই হোক কোন বাইরের লোকদের এনে কাউকে শো-এফ করতে দেয়া হবেনা। এখানে বিএনপি জামায়াত কিছু করার চেষ্টা করেছে আমরা আমাদের বার ও আইনজীবীদের নিরাপত্তায় যা করা দরকার করেছি এবং করবো। আইনজীবীরা আমাদের সেই দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি হটাৎ করে বাইরে থেকে মহিলা এনে কেন কর্মসূচী করতে চেয়েছেন হয়তো হাইলাইট হতে বা নিজে মিডিয়ায় নেতা হতে এমনটা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটু ঝামেলা আছি ভাই, এখন কথা বলতে পারবোনা।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রাশিদা জামাল জানান, আমরা আমাদের কারাবন্দি, নির্যাতিত, গুলিবিদ্ধ, নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে, জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। যেহেতু আজ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস তাই আমাদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরতেই এ কর্মসূচী ছিল। আমাদের কর্মসূচীতে আওয়ামীলীগ পন্থী আইনজীবীরা বাধা দিয়ে সেটি পন্ড করে দিয়েছেন। 

দলের কোন নেতাকর্মী বা আইনজীবী কেন ছিলেন এমন প্রশ্নে তিনি নিজেও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন 'বুঝতেসিনা'।

এদিকে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচী পালন করতে এসে দলের কাউকে না পেয়ে বিএনপিহীন মানববন্ধনে এসে নেতাদের ধিক্কার জানিয়েছেন নির্যাতিতদের স্বজনরা। তারা অনেকেই বলেছেন, দলের কি কোন আইনজীবীরাও নেই যারা আজ আমাদের সাথে তাদের কোর্ট প্রাঙ্গণে এসে সহমর্মিতা জানাতে পারেন?