সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সন্ধ্যা নামলেই ফুটপাতজুড়ে অবৈধ সংযোগে বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৩৩, ২৪ আগস্ট ২০২৬

সন্ধ্যা নামলেই ফুটপাতজুড়ে অবৈধ সংযোগে বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাতের পাশে সন্ধ্যার পর দেখা মেলে ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের জট। চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও অন্যান্য কাজে এমন সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। 

একই চিত্র দেখা যায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা রিকশা ও ইজিবাইকের গ্যারেজগুলোতেও। শহরের আশেপাশে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ অটোরিকশার গ্যারেজেই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় বিষয়টি অনেকটা আড়ালে থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর এসব সংযোগের ব্যবহার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফুটপাতের দোকান কিংবা অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একাধিক বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান ও অন্যান্য সরঞ্জাম চালানো হয় অবৈধ সংযোগ নিয়ে।

চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি পর্যন্ত ব্যস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে ফুটপাত ও সড়কের পাশে ঝুলতে থাকা তারগুলো পথচারীদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। কোনো কোনো স্থানে তারগুলো নিচু হয়ে ঝুলে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং নিয়ে নিয়মিতই গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও চাষাঢ়া, মাসদাইর, উকিলপাড়া, আমলাপাড়া, কালিরবাজার, টানবাজার, দেওভোগ, কাশীপুর ও ডিআইটি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দিনের প্রায় সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ অবস্থায় প্রকাশ্যে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বৈধ গ্রাহকদের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও যখন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তখন অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কেন দৃশ্যমান হচ্ছে না?

স্থানীয়দের ভাষ্য, অবৈধ সংযোগের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি এসব সংযোগের পেছনে কোনো অসাধু চক্র বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি উঠেছে।

শুধু ফুটপাতের দোকান নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা রিকশা ও ইজিবাইকের গ্যারেজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক গ্যারেজে বৈধ মিটার বা অনুমোদিত সংযোগের বাইরে অতিরিক্ত লাইন টেনে রাতভর ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে।

একটি গ্যারেজে একসঙ্গে অনেকগুলো ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এসব সংযোগ বৈধ কি না, তা নিয়ে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে অভিযান ও জরিমানার নজিরও রয়েছে। এর আগে মিটার কারসাজির অভিযোগে জেলার পাঁচটি কারখানাকে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোথায় অবৈধ সংযোগ রয়েছে তা শনাক্ত করা খুব কঠিন কোনো বিষয় নয়। সন্ধ্যার পর শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে চলাচল করলেই অনেক সংযোগ চোখে পড়ে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে এগুলো ব্যবহৃত হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও কিছুদিনের মধ্যে আবার নতুন করে তার টেনে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। ফলে শুধু সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, দালাল বা কোনো অসাধু চক্র থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিদ্যুৎ চুরি বা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে কোন ধরনের অপরাধে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা ঘটনার ধরন ও সংশ্লিষ্ট আইনের ধারার ওপর নির্ভর করে। তাই অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগরবাসীর প্রশ্ন, একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও লোডশেডিং মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে যদি প্রকাশ্যেই অবৈধ সংযোগ চলতে থাকে, তাহলে এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান হবে কবে?

তাদের দাবি, চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি পর্যন্ত সড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে রিকশা ও ইজিবাইক গ্যারেজগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈধতা যাচাই করে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন তা নিয়েও প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মাঝে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।