ফাইল ছবি
ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যাতায়াত আরও সহজ করতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে ৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলে তা বাড়িয়ে ১৬ জোড়া করার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে প্রতিদিনের যাতায়াতে রেলপথের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, রাজধানীকে ঘিরে একটি বিস্তৃত কমিউটার ট্রেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই রুটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নরসিংদী, টঙ্গী, জয়দেবপুর ও টাঙ্গাইলকেও এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে মানিকগঞ্জকে যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
রাজধানীর ওপর জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থানের চাপ কমানোর পাশাপাশি ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে প্রতিদিন কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের সুযোগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেও প্রতিদিন ঢাকায় এসে কাজ শেষ করে আবার নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ আরও সহজ হবে।
বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ৮ জোড়া ট্রেনের ওপর নিয়মিত যাত্রীদের বড় একটি অংশ নির্ভরশীল। ফলে অফিসের সময় ও ব্যস্ত সময়ে ট্রেনে যাত্রীচাপ তৈরি হয়। ট্রেনের সংখ্যা ১৬ জোড়ায় উন্নীত হলে একই সময়ে বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সড়কপথের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমতে পারে।
বিশেষ করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কপথে দীর্ঘদিনের যানজট, গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ এবং যাতায়াতে সময়ক্ষেপণের কারণে রেল যোগাযোগকে অনেক যাত্রী বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন। ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে এই বিকল্প ব্যবস্থাটি আরও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কমিউটার ট্রেন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি নতুন কমিউটার ট্রেনের শেষ গন্তব্য হিসেবে গোপালগঞ্জকে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ওই ট্রেনে আটটি কোচ রয়েছে। এতে বসে প্রায় ৬০৯ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। দাঁড়িয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীসহ একটি ট্রেনে মোট দেড় হাজারের বেশি মানুষ পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।
কোচের সংখ্যা বাড়ানো হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে রাজধানীর বাইরে বসবাস করে ঢাকায় কাজ করার সুযোগ বাড়লে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি কমিউটার ট্রেন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, আশপাশের জেলা থেকে মানুষ যেন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় এসে ব্যবসা বা চাকরির কাজ শেষ করে একই দিনে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এতে রাজধানীর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগও সহজ হবে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ১৬ জোড়া ট্রেন চালুর বিষয়টি তাই শুধু ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নয়; বরং রাজধানীকেন্দ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ এবং নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগকে রেলনির্ভর করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

