রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বিশাল গর্ত, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে দুর্ঘটনার শঙ্কা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১০:৩৬, ২৩ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বিশাল গর্ত, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে দুর্ঘটনার শঙ্কা

ফাইল ছবি

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি সেতুতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ খানাখন্দ ও বিপজ্জনক গর্ত। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর এলাকার ওই সেতুর ওপর ঢালাই ধসে গিয়ে পলেস্তারা উঠে গেছে। ফলে ভেতরের লোহার রড কঙ্কালের মতো বেরিয়ে এসেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অংশের ওপর দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে।

শনিবার (২২ আগস্ট)  সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় সেতুর ঠিক মাঝখানেই ঢালাই ধসে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাময়িকভাবে গর্তটি ঢাকার জন্য একটি পাতলা লোহার পাত (শিট) ফেলা হলেও যানবাহনের চাপে তা সরে গেছে। ফলে বেরিয়ে এসেছে ভেতরের রড এবং গর্তের ভেতর দিয়ে নিচের ফাঁকা অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তিতাস পরিবহনের যাত্রী শহিদুল্লাহ বলেন, দূরপাল্লার দ্রুতগতির বাস ও ভারী ট্রাকগুলো হঠাৎ এই গর্তের কাছে এসে জরুরি ব্রেক করছে। রাতের আঁধারে বা বৃষ্টির সময় এখানে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

একুশে পরিবহনের চালক সোহরাব হোসেন জানান, মেঘনা সেতু ও টোলপ্লাজা সংলগ্ন এই অংশে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন তীব্র গতিতে চলে। দ্রুতগতিতে আসা গাড়িগুলো এই ভাঙা অংশের কাছে এসে হঠাৎ গতি কমাতে বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে লেন পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পেছনের গাড়ির সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলো ভাঙা অংশ পার হতে গিয়ে উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, টোলপ্লাজা পেরিয়ে আসার পর যানবাহনের গতি বেশি থাকে। দূর থেকে সেতুটির মাঝখানের এই গর্ত চালকদের পক্ষে হঠাৎ খেয়াল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সোনারগাঁয়ের স্থানীয় পথচারী ও চালকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। চালকদের মতে, কোনো সাময়িক জোড়াতালি না দিয়ে রড বের হয়ে যাওয়া এই সেতুটি দ্রুত স্থায়ীভাবে মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার পাশাপাশি মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম জনদুর্ভোগ দেখা দেবে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সেতুটির ওই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কথা তারা অবগত আছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি পরিদর্শন করে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখা যায়।