ফাইল ছবি
বন্দরের বক্তারকান্দি এলাকায় ২লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ডকইয়ার্ড লুন্ঠনকারী ও মালিককে হত্যা চেষ্টাকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আমজাদ ওরফে বল্টু আমজাদ ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরিফকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সম্প্রতি তার দুই কুপুত্র হৃদয় ও আপনকে গ্রেফতার করলেও ২২ আগষ্ট সোমবার লৌমহর্ষক এ ঘটনার ৮দিনেও সন্ত্রাসী বল্টু আমজাদ ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরিফকে গ্রেফতার না করায় ডকইয়ার্ড মালিক ইমান খান ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীণ শংকার মধ্যে দিন কাটচ্ছে। একই সাথে এলাকাবাসীর মাঝে অজানা আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, বন্দরের ছিঁচকে ও উঠতি সন্ত্রাসী শেখ সিফাত ওরফে কাটা সিফাত পুলিশে জালে আটকা পড়লেও বল্টু আমজাদকে গ্রেফতারে তারা অনীহা দেখাচ্ছে। যে কারণে অধরা থেকে বল্টু আমজাদ নিরীহ ইমান খানকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সন্ত্রাসী খন্দকার আমজাদ হোসেন ওরফে বল্টু আমজাদ বন্দর থানার একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময়ের মধ্যে একাধিকবার হিটলিষ্টের তালিকায়ও তার নাম উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অস্ত্র, হত্যা, চাঁদাবাজীসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামীলীগের শাসনামলে বল্টু আমজাদ এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তোলে। সে পলাতক গডফাদার শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। আওয়ামীলীগের সরকারের পতনের পরও ইদানীং বল্টু আমজাদ তার অপকর্ম বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে। যার ধারবাহিকতায় গত ১৪ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বল্টু আমজাদ তার ছেলে আপন, হৃদয়, সহযোগী আরিফসহ বেশ কয়েকজন দলবদ্ধ হয়ে ডকইয়ার্ডের প্রধান ফটকে হামলা চালান। তাঁরা গেট ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশের পর ডকইয়ার্ডের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইমান খান (৪২) অফিসে ছিলেন। অভিযুক্তরা তাঁকে জোর করে অফিস থেকে বের করে ফ্যাক্টরির বাইরে একটি বটগাছের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও রক্তজমাট জখম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফায়েজ আহম্মেদ আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে ব্যবহার করে একটি ঝুটের গুদাম ও ক্লাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছেন। এর প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতি মাসে ফ্যাক্টরি থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সংক্রান্ত চাঁদা দেওয়ার স্লিপ ও স্বাক্ষর সংরক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

