ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতার কারণে তীব্র সংকটে পড়েছেন তিতাসের প্রায় ৮১ হাজার গ্রাহক। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর কর্মজীবী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে।
খানপুর এলাকার গৃহবধূ শ্রাবণী আক্তার বলেন, গত দুই দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম ছিল। বৃহস্পতিবার গ্যাস একেবারেই ছিল না। হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য সরবরাহ এলেও রান্না করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে।
কাশিপুর বাংলাবাজার এলাকার লিমন দেওয়ান বলেন, আগের রাত থেকেই চুলায় গ্যাস নেই। এ কারণে বাসায় রান্নাবান্না করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে সব খাবার বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
সস্তাপুর এলাকার আকিব মাহমুদ জানান, গ্যাস না থাকায় ইলেকট্রিক চুলায় বাসার রান্না করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কাশিপুরের হাজীপাড়া এলাকার গৃহবধূ রুমা আক্তার বলেন, রাতে কিছুটা গ্যাস থাকলেও সকালে একেবারেই পাওয়া যায় না। সন্তানদের স্কুল থাকায় সময়মতো নাশতা দিতে পারেননি। পরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কাঠের চুলা জ্বালিয়ে অনেক কষ্টে দুপুরের রান্না শেষ করতে হয়েছে।
ইসদাইর এলাকার আল-আমিন বলেন, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যা চলছে। সকালে গ্যাস থাকে না। মাঝেমধ্যে সামান্য চাপ আসে, কিন্তু রান্না শেষ হওয়ার আগেই আবার চলে যায়।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের সরবরাহ থাকে না। কখনো অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও চাপ এত কম থাকে যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হয় না। এ কারণে অনেকে ইলেকট্রিক ও কাঠের চুলা ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনজুর আজিজ মোহন বলেন, এলএনজি সরবরাহের প্রধান উৎস এফএসআরইউয়ের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। মেরামত শেষে সেটিতে আবার সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। এ কারণে কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ ডিপার্টমেন্টে তিতাসের প্রায় ৮১ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে ডাউনস্ট্রিম এলাকায় থাকা গ্রাহকরাই গ্যাস সংকটে বেশি ভুগছেন। তবে আপস্ট্রিম এলাকার গ্রাহকরা কিছুটা সরবরাহ পাচ্ছেন। সংকট দ্রুত সমাধানে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

