নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জে ৭৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পূজামণ্ডপ, প্রতিমা তৈরি ও প্রতিমা স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ টহল টিম মাঠে থাকবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা জানান নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান।
সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানান, এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২৩৯টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।
পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
পুলিশ সুপার জানান, গত বছর দুর্গাপূজায় নারায়ণগঞ্জে ৭০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও ৫০ জন বাড়িয়ে মোট ৭৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তারা সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া প্রতিমা তৈরির স্থান এবং প্রতিমা মণ্ডপে স্থানান্তরের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। পূজার সময় চুরি, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ যেকোনো অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ টহল টিম সক্রিয় থাকবে।
সভায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা বা আশঙ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পূজা উদযাপন যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসময় পূজা উদযাপন কমিটি, মণ্ডপসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান এসপি। তিনি পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

