শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ২৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ, নানা অব্যবস্থাপনায় রোগীদের মাঝে অসন্তোষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ, নানা অব্যবস্থাপনায় রোগীদের মাঝে অসন্তোষ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে শয্যার সংকট থাকায় অনেক রোগীকে থাকতে হচ্ছে বারান্দায়।ফ্যান বাতি না থাকায় গরমে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীরা। এতে একদিকে যেমন রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য মশারি না থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, রূপগঞ্জ একটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। কিন্তু হাসপাতালের শয্যা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রোগীর তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।

হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে শয্যার সংকট থাকায় অনেক রোগীকে থাকতে হচ্ছে বারান্দায়। ফ্যান বাতি না থাকায় গরমে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীরা। এতে একদিকে যেমন রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য মশারি না থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালটিতে বর্তমানে একটি অপারেশন থিয়েটার বা ওটি চালু রয়েছে। তবে সার্জারি রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে আরও ওটি কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জানান, ওটিতে প্রয়োজনীয় এসি, লাইট এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। এসব সরঞ্জাম না থাকায় সার্জারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না।
ফলে একদিকে রোগীর চাপ, অন্যদিকে শয্যা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে চিকিৎসাসেবা দিতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

রোগীরা জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও বর্তমানে রোগীর সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ জন। ভিতরে সিট না পেয়ে বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। ফ্যান বাতি না থাকায় আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্বজনদের।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রুগী আহমদ আলী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেড কম রয়েছে। যার জন্য বারিন্দায় ফ্লোরে ভর্তি থাকতে হচ্ছে। অন্যান্য রোগীদের খাবার দাবার দেওয়া হলেও আমাদের দেওয়া হচ্ছে না।

একই অভিযোগ আরেক রোগী আমেনা আক্তারের। তিনি বলেন, এখানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ৫০ জনের উপরে হলে সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও ওষুধ ও খাবার সংকট রয়েছে।

ফাতেমা বেগম নামের আরেক রোগী বলেন, প্রচন্ড গরম। নেই ফ্যান, নেই বাতি। ডেঙ্গু রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না মশারি। এ যেন হযবরল অবস্থা।

তাই ফ্যান-বাতি, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতিসহ নানা সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান নিম্ন এবং দরিদ্র ঘরের রোগীরা।

সার্জারি ডা: ইসরাত জাহান বলেন, রূপগঞ্জের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে আরেকটি ওটি চালু করতে ফ্যান এসে বাতিসহ স্টাফ এর প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তানভীজ জুবায়ের ইমন বলেন, আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অতিরিক্ত রোগের চাপ থাকায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারলেও তাদের খাবার থাকার ব্যবস্থা বারান্দায় করতে হচ্ছে শয্যা ব্যবস্থা করা হলে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় বলেন , হাসপাতালটিতে ফ্যান বাতি মশারি এবং ওটি চালু করতে এসে বাতিসহ যা লাগবে আমাদের কাছে চাইলে দিয়ে দিবো।