ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নেতাকর্মীদের মধ্যে হঠাৎ করে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও তার রাজনৈতিক সচিব খায়রুল ইসলাম সজীব ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে সজীবকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মারামারি থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমানের ছেলে, ভাতিজা ও ভাগিনাদের হাতাহাতির মধ্য দিয়ে মোগরাপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তাদের দাবি, অনুষ্ঠানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, আতাউর রহমানের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আতাউর রহমান ও তার ছোট ভাই খোরশেদ ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
তাদের অভিযোগ, আতাউর রহমানের ছেলের সঙ্গে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের ছবি রয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতের সঙ্গেও তার ছবি রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে অতীতে ওই ব্যক্তি সোনারগাঁয়ে ছাত্রলীগের পরিচয় দিতেন এবং যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত চলাফেরা করতেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জানা যায় আতাউর রহমানের বড় ভাই দুলালের ছেলে হৃদয়, সোহান ও অনিকও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া আতাউর রহমানের ভাগিনা সোহেল ও রুবেল আওয়ামী লীগ নেতা কালামের অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিবারের এসব সদস্য বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, মোগরাপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়া ঠেকাতেই একটি পক্ষ নানা ধরনের বিরোধ তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ বলে তারা মনে করছেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে হাতাহাতির ঘটনায় সাংগঠনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

