বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে ভোগান্তি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ১২ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে ভোগান্তি

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ, মাসদাইর, গাবতলী, জামতলাসহ ফতুল্লার বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা দুই দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ একেবারেই কম থাকায় বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবারে রান্নার দায়িত্বে থাকা গৃহিণীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোর ও সকালে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকলেও এ সময়ই সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। চুলায় আগুন জ্বলছে না, আবার কোথাও জ্বললেও এতটাই কম যে রান্না করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে রান্না করা খাবার কিনে খাচ্ছেন।

দেওভোগ এলাকার গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, সকালে পরিবারের সদস্যদের জন্য নাশতা ও দুপুরের রান্না একসঙ্গে করতে হয়। কিন্তু দুই দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় চুলায় আগুনই ঠিকমতো জ্বলছে না। ফলে রান্না শেষ করতে না পেরে অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে।

মাসদাইর এলাকার আরেক গৃহিণী রওশন আরা বেগম বলেন, গ্যাসের সমস্যা নতুন নয়, তবে গত দুই দিনে সংকট অনেক বেশি। সকালে রান্না করতে না পারায় পরিবারের সদস্যদের কাজে ও স্কুলে পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় চাপ বেড়েছে মাসদাইর, জামতলা ও আশপাশের এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে। বিশেষ করে সকালের দিকে নাশতা এবং দুপুরে রান্না করা খাবার কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অনেক পরিবার বাসায় রান্না করতে না পারায় দুপুরের খাবারও হোটেল থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

মাসদাইর এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুর রব জানান, গ্যাস সংকটের কারণে গত দুই দিন ধরে ক্রেতা বেড়েছে। সকালে নাশতার সময় চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। দুপুরের সময়ও অনেকেই বাসায় রান্না না হওয়ায় ভাত, মাছ, মাংস ও অন্যান্য খাবার কিনতে আসছেন।

জামতলা এলাকার আরেক বিরিয়ানির দোকানদার কবির বলেন, সাধারণ দিনের তুলনায় খাবার বিক্রি বেড়েছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে শুধু ক্রেতাদেরই নয়, হোটেল ব্যবসায়ীদেরও বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। রান্নার কাজ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

হোটেলে খাবার কিনতে আসা আহমেদ শান্ত বলেন, বাসায় গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন এভাবে বাইরে থেকে খাবার কিনলে পরিবারের ব্যয়ও বেড়ে যায়। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।

আরেক ক্রেতা সালমান আহমেদ বলেন, সকালে বাসায় রান্না করতে না পারায় নাশতা বাইরে থেকে কিনেছেন। দুপুরের রান্নাও করা সম্ভব না হলে আবার হোটেল থেকেই খাবার কিনতে হবে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহের এমন সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে কম চাপ বা গ্যাস না থাকার কারণে শুধু রান্নাবান্নাই নয়, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।

দেওভোগ, মাসদাইর, গাবতলী, জামতলা ও ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জোনাল শাখার ব্যবস্থাপক প্রকৌ. মো. আসাদুজ্জামান আজাদ জানান, গ্যাসের সংকট পুরো নারায়ণগঞ্জ জুড়েই। গতকাল থেকে আমরা চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছি না। তাই যথাযথ সরবরাহ করতে পারছি না। তবে সরকার থেকে জানানো হয়েছে দুইদিনের মধ্যে এই সমস্যা কেটে যাবে।