মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

ভাদ্র ২৩ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

শীর্ষ নেতারা প্রশাসনিক দায়িত্বে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যক্রমে ভাটা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২১:৪৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শীর্ষ নেতারা প্রশাসনিক দায়িত্বে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যক্রমে ভাটা

ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক তৎপরতায় গতি হারিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের একাংশ বর্তমানে জনপ্রতিনিধি ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে থাকায় মাঠের রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি আগের তুলনায় কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে দলটির নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, নেতৃত্বের সক্রিয়তা কমে যাওয়ায় জেলা বিএনপির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

দলীয় রাজনীতিতে জেলা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কেন্দ্র হলেও নারায়ণগঞ্জে সেই কাঠামোর নিয়মিত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত সভা, সাংগঠনিক কর্মসূচি, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগে আগের মতো সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।

জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান অবস্থানও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে আসছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত সময় দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় কার্যক্রম ও নির্বাচনী এলাকার নানা কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি উপস্থিতিও সীমিত হয়েছে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি।

অন্য যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। জেলার গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতার বিভিন্ন দায়িত্বে থাকার কারণে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিএনপি সক্রিয় থাকলেও জেলার সাংগঠনিক কাঠামোকে একই গতিতে সক্রিয় রাখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও কর্মসূচির ঘাটতি থাকলে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগও কমে যায়।

এ অবস্থায় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক সভা ও কর্মসূচি না থাকায় অনেক নেতাকর্মী নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

জেলা বিএনপির কার্যক্রমে এই ধীরগতির বিষয়টি সম্প্রতি আরও দৃশ্যমান হয়েছে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির ব্যানারে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। ঘটনাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে আসে।

তবে শুধু একটি কর্মসূচির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দিয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান মূল্যায়ন করতে চান না সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তাদের মতে, শীর্ষ নেতাদের বর্তমান প্রশাসনিক ও জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব, দলীয় কাঠামোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকাণ্ড সবকিছু মিলিয়েই পরিস্থিতিকে দেখতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের জেলা কমিটি দীর্ঘ সময় মাঠে সক্রিয় না থাকলে তার প্রভাব শুধু কর্মসূচিতে নয়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি, সাংগঠনিক ঐক্য এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে সামনে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থাকায় জেলা পর্যায়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চান, জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিজেদের দায়িত্বের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হোন। নিয়মিত সভা, কর্মসূচি, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তাদের।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সামনে এখন বড় প্রশ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে কীভাবে জেলা সংগঠনকে আবার মাঠমুখী করা হবে। নেতৃত্বের এই ব্যস্ততা ও সাংগঠনিক স্থবিরতার মধ্যে তৃণমূলকে কতটা সক্রিয় করা সম্ভব এবং জেলা বিএনপির কর্মকাণ্ডে কবে দৃশ্যমান গতি ফিরবে, সেটিই এখন নেতাকর্মীদের আগ্রহের বিষয়।