ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ব্যবসা পরিচালনা ও চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি বালুর গদিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় ম্যানেজার মোঃ ছোবহান রূপগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে সোরহার মিয়া, সাগর মিয়া, সাকিব, বিজয় মিয়ার নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের কথা জানান।
অভিযোগে ছোবহান উল্লেখ করেন, তিনি মীরকুটির এলাকার ভূইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক শাওন ভূইয়া শাকিলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। একই এলাকায় এমকে এগ্রো কয়েল ফ্যাক্টরিতেও প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে লাকড়ি সরবরাহ করা হয়। প্রায় দুই বছর আগে সোরহার মিয়া নামে এক ব্যক্তি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভূইয়া এন্টারপ্রাইজ থেকে ইট, বালু ও সিমেন্ট নেন। এসব পণ্যের বাবদ তার কাছে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা চাইলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই বিকালে মীরকুটির ছেও সাকিন এলাকায় সোরহার মিয়ার সঙ্গে দেখা হলে পাওনা টাকা চাইলে তিনি টাকা পরিশোধ করবেন না বলে জানান। বিষয়টি শাওন ভূইয়া শাকিলকে জানানো হলে তিনিও ওই ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে চান। তখন সোরহার মিয়া এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর থেকে শাওন ভূইয়া শাকিলের কাছে ওই টাকা দাবি করে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ছোবহান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শাওন ভূইয়া শাকিলের সঙ্গে সোরহার মিয়ার বিরোধ তৈরি হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মীরকুটির ছেও সাকিন এলাকায় এমকে এগ্রো কয়েল ফ্যাক্টরিতে লাকড়ির গাড়ি পৌঁছালে চালক ইব্রাহিম ও শ্রমিকরা গাড়ি থেকে লাকড়ি নামাচ্ছিলেন। এ সময় সোরহার মিয়াসহ অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। চালক ইব্রাহিম প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে ও শ্রমিকদের কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন এবং লাকড়িবাহী গাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাদের শাওন ভূইয়া শাকিলের কাছ থেকে লাকড়ি কিনলে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি ভূইয়া এন্টারপ্রাইজের বালুর গদিতে অবস্থান করছিলেন। তখন অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গদিতে প্রবেশ করেন। তারা তাকে গালিগালাজ করে গদিতে থাকা চেয়ার, টেবিল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ছোবহান অভিযোগ করেন, ভাঙচুরে বাধা দিলে অভিযুক্তরা লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সোরহার মিয়া, সাগর মিয়া ও সাকিব গদির ক্যাশে থাকা ইট ও সিমেন্ট বিক্রির টাকা এবং আমদানিকৃত অর্থসহ মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া সাগর মিয়া তার ব্যবহৃত ভিভো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, যার আনুমানিক মূল্য ২২ হাজার টাকা, নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে এবং শাওন ভূইয়া শাকিলকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করেন বাদী। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের পর শনিবার রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

